কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর-SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা দায়ের করেছেন তিনি। রবিবার এই তথ্য সামনে এসেছে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাতের আগেই এই আইনি পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হতে পারে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে বিষয়টি উঠতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের মামলার শুনানিও নির্ধারিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাত পোহালেই মাধ্যমিক, পরীক্ষার্থীদের জন্য হেল্পলাইন চালু কলকাতা পুলিশের
মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করে আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে এই সংশোধনী প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্যবেক্ষণে প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজ়ারভার নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আইনি ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
মমতার বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ ও ১৯৬০ অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধন, দাবি-আপত্তি শুনানি এবং অন্তর্ভুক্তি বা বর্জনের চূড়ান্ত ক্ষমতা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও-দের হাতে। সেখানে মাইক্রো-অবজ়ারভারদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ আইনসঙ্গত নয় বলেই তিনি দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের আগে আইনি পথে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি ও দিল্লির বৈঠক—দুই দিকেই নজর জাতীয় রাজনীতির।







