কলকাতা: কলকাতার নিউ মার্কেটের (New Market Fire) মির্জা গালিব স্ট্রিটের (Mirza Galib Street) হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে এত জনের মৃত্যু কী ভাবে হল? প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় তারই উত্তর মিলেছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। ফরেনসিক পরীক্ষায় উঠে এসেছে, তিনতলার রিসেপশন এলাকায় এসির তার বা পোর্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি তৈরি হয় ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অন্তত ৯ জনের।
বুধবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ভবনের ভিতর। ঘুমন্ত আবাসিকদের অনেকেই ঘর থেকে বেরোতে পারেননি। আগুনের তাপের তুলনায় বিষাক্ত ধোঁয়াই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: চা-বাগানের অব্যবহৃত জমিতে বড় বদল, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের সীমা ৩০ থেকে কমে ১৫ শতাংশ করা হল
ফরেনসিক সূত্রের দাবি, তিনতলার রিসেপশনে থাকা এসির অংশ বিশেষ ফুলে যাওয়ার চিহ্ন মিলেছে। সেখান থেকেই তারে সমস্যা তৈরি হয়ে আগুন লাগতে পারে। পরে একের পর এক তার ফেটে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘরগুলিতে ধোঁয়া ঢুকে পড়ায় অনেকেই প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ পাননি।
মৃতদের মধ্যে কয়েক জন বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। এক বাংলাদেশি সাংবাদিক তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং বাবাকে নিয়ে ওই হোটেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের দেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার হয়। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ানও রিসেপশনের পাশের ঘরে ছিলেন। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছ’জন আহত হয়েছেন। বুধবার দেহ শনাক্তকরণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যায়নি। বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।
এ দিকে ঘটনায় হোটেলের লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ম্যানেজার ও এক কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পলাতক মালিকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।







