কলকাতা: বার বার ঠিকানা বদল। ধরা পড়ার আশঙ্কায় বদলে ফেলেছিলেন ফোন নম্বরও। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে রেহাই মিলল না। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক-পড়ুয়ার (RG Kar Case) মৃত্যুকে ঘিরে দায়ের হওয়া নতুন মামলায় বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে। খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে রাজ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হবে।
গত ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে পানিহাটিতে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই নির্যাতিতার দেহ দ্রুত দাহ করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, তড়িঘড়ি দাহের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে।
আরও খবর : মেলবোর্নের ধাঁচে ফিরবে কলকাতার ট্রাম? অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বড় ইঙ্গিত অর্জুনের
এই ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে নির্যাতিতার বাবা খড়দহ থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আগেই নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। যদিও অন্য একটি মামলায় নির্মল এখনও জেলবন্দি।
অন্য দিকে, নতুন মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই সোমনাথ আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের চোখ এড়াতে বার বার ঠিকানা পরিবর্তনের পাশাপাশি ফোন নম্বরও বদলাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান বেঙ্গালুরুতে জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালায় খড়দহ থানার পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন শ্মশানের রিকুইজিশনে সোমনাথের নাম ছিল। সেই সূত্র ধরে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর জি কর-কাণ্ডের নতুন মামলায় তাঁর ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।







