নয়াদিল্লি: বাংলার ভোটার তালিকা নিয়ে এসআইআর (SIR) বিতর্কে ফের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে তথ্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আপিল ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে, মঙ্গলবারের শুনানিতে কমিশনের কাছে তা জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনালের কাজের কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। আগামী ২৫ অগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি।
এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, কমিশনের প্রক্রিয়ায় বাংলার প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেই নামগুলি নিয়ে আপিল ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার গতি অত্যন্ত ধীর বলে অভিযোগ মামলাকারীর।
আরও খবর : আরজি কর-কাণ্ডে ফের নয়া মোড়, নার্সের ফোন বাজেয়াপ্ত CBI-এর! পানিহাটি শ্মশানেও পৃথক তদন্ত
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। অধীরের আইনজীবী রাউফ রহিম আদালতে জানান, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা বহু মানুষ রেশন-সহ বিভিন্ন সামাজিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়।
তবে সামাজিক পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়টি এই মামলার পরিধির মধ্যে আনতে রাজি হয়নি আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, কোনও ব্যক্তিকে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে কি না, তা হাই কোর্টের বিচার্য বিষয়। আবেদনের পরিধি বাড়ালে মামলাটি হাই কোর্টে পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের।
অধীরের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান গতিতে ট্রাইব্যুনালের কাজ চললে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। তাই মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলায় ব্লক-ভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অতিরিক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। কমিশনের ব্যাখ্যায় মৃত, স্থানান্তরিত ও একাধিক বার থাকা ভোটারদের নামও বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে। তবে বাদ পড়া ভোটারদের একটি বড় অংশ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের নিষ্পত্তির গতি নিয়েই এখন শীর্ষ আদালতের নজর।







