পূর্ব বর্ধমান : নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে নিখোঁজ পূর্ব বর্ধমানের শিমডাল গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপ কুমার গরাই। বছর ৪০-এর সন্দীপ নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে যুক্ত ছিলেন। বুধবার, ২৬ অগস্ট সকাল থেকেই তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। উৎকণ্ঠার মধ্যে তাঁর ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে নেপালে কর্মরত সন্দীপ। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ স্ত্রী তিথি গরাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। সেই সময় তিনি অফিসেই ছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দুপুরে সন্দীপকে ফোন করলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এর কিছুক্ষণ পর নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর ফের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন স্ত্রী তিথি। কিন্তু কোনওভাবেই স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তিথি গরাই জানান, কাঠমান্ডুতে সন্দীপের অফিসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে সেখান থেকেও এখনও তাঁর বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সন্দীপের পরিবার।
আরও খবর : পুলিশে ৪৩ হাজার শূন্যপদ, নিয়োগের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
সন্দীপ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। স্ত্রী তিথি ও এক ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। তাঁদের ছেলে শিমডাল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ভোটের সময় শেষবার বাড়িতে এসেছিলেন সন্দীপ। এরপর ফের কর্মস্থল নেপালে ফিরে যান তিনি। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সন্দীপ ছিলেন ছোট। তাঁর বড়দাদা দীপক গরাইয়ের শিমডাল গ্রামেই সোনা-রূপোর দোকান রয়েছে। এদিকে, বুধবার নেপালের রাসুয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বানে একাধিক সেতু, রাস্তা, বসতি এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের সন্দীপ কুমার গরাই। পরিবারের এখন একটাই আশা সন্দীপ নিরাপদে ফিরে আসুন।







