ওয়েব ডেস্ক : ভয়াবহ গঙ্গাভাঙনে মালদহের (Malda) ভূতনী ও রতুয়া সংলগ্ন এলাকার পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ নদীগর্ভে চলে গেল। শনিবার গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে গঙ্গায় ভেঙে (Ganga Erosion) পড়ে। ঘটনায় গোটা বিদ্যালয় চত্বরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভূতনী ও রতুয়া সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে নদীভাঙন। ইতিমধ্যেই বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটে ও জমি হারিয়েছেন। এবার সেই ভাঙনের কবলে পড়ল পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলে প্রায় ৩২০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাপি সরকার জানিয়েছেন, গত বছর থেকেই গঙ্গা বিদ্যালয়ের খুব কাছে চলে এসেছিল। বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানানো হয়েছিল। বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। কিন্তু অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি।
আরও খবর : ৯ মৎস্যজীবীর পরিবারের সদস্যকে হোমগার্ডের নিয়োগপত্র দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
বাপি সরকারের কথায়, ২০১০ সালে তিনি এই স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় গঙ্গা (Ganga) ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। সময়ের সঙ্গে নদী এগিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত স্কুলের একটি অংশ গ্রাস করেছে। প্রশাসন ও সরকারের উদাসীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন। স্কুলের আসবাবপত্রও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের অন্যত্র পড়ানোর জন্য খাসমহল জুনিয়র হাইস্কুলের কথা ভাবা হলেও সেটিও বর্তমানে জলের তলায় রয়েছে।
জেলা শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিস্থিতির উন্নতি হলে অন্য কোনও নিরাপদ বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি নতুন জায়গায় পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকেরা।







