ওয়েব ডেস্ক : তৃণমূলের (TMC) সব পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলের শীর্ষ নেতারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইস্তফা দিলেন বারাসাতের সাংসদ। এ নিয়ে ইতিমধ্যে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে খবর। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি। এর পর তাৎপর্যপূর্ণভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘ চিন্তা ভাবনার পর আমি এই পত্র লিখতে বাধ্য হচ্ছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে যে সম্মান, দায়িত্ব ও মানুষের পাশে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বিশেষত, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন সিহাবে কাজ করার সুযোগ আমার রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।”
এর সঙ্গে ক্ষোভের সুরে লিখেছেন, “যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য একজন অশিক্ষিত অভদ্র দলীয় সাংসদের আচরণ বন্ধ করা যায় না, বা উর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা সহানুভুতি পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।” এমন আক্রমণের মুখে কি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়া একাধিক বিষয় কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar) তাঁর ইস্তফাপত্রে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সঙ্গে লিখেছেন, যেভাবে আরজি করের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য’ ধামাচাপার অভিযোগ উঠেছিল, বিষয়টি তাঁকে ব্যাথিত ও স্তম্ভিত করেছে।
এছাড়া আইপ্যাক নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, “আইপ্যাককে (I-Pac) ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহলের তরফে উত্থাপিত একাধিক উদ্বেগজনক অভিযোগ আমাকে বিচলিত করেছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।”
কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ অভিমান থেকে নয়, বরং দল, গণতন্ত্র ও জনজীবনের প্রতি আমার নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, তিনি দল তৃণমূল (TMC) ছাড়ছেন না। সাঝধারণ একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
দেখুন অন্য খবর :







