ওয়েব ডেস্ক: আমডাঙায় নির্বাচনী জনসভায় বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আমডাঙার তৃণমূল প্রার্থী কাশেম সিদ্দিকীর সমর্থনে উলুডাঙার স্কুলমাঠে সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার পরে তিনি সভা করবেন হরিপালের তৃণমূল প্রার্থী, বেচারামের স্ত্রী করবী মান্নার সমর্থনে। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবেন হাওড়ায়। শিবপুর এবং হাওড়া দক্ষিণ কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায় এবং নন্দিতা চৌধুরীর সমর্থনে সভা করবেন তৃণমূলনেত্রী। আমডাঙার জনসভা (Mamata Public Meeting Amdanga) থেকে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপিকে তোপ দেগে মমতা বলেন, অন্য রাজ্যে কাজে যাওয়া মানুষরা রাজ্যে ফিরছেন ভোটের জন্য। গীতা-কোরান ছুঁইয়ে তাঁদের বলিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিজেপিকে ভোট দিন।
ব্যারাকপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বার বার কেন্দ্রকে বলি পাটের ব্যাগ নাও। নেয় না। পাটকল বন্ধ করে দেয়। আমরা খোলার চেষ্টা করি।
প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে ফের তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঝালমুড়ি তো এসপিজি বানিয়ে দিয়েছিল। আগে থেকে ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিল। আবার পকেটে করে মোড়া ১০ টাকা নিয়ে গিয়েছেন।”

ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।সভা থেকে বিজেপিকে তোপ দাগলেন মমতা। এক মাস ধরে প্রতি দিন বহু সভা করেছেন। সে কথা জানিয়ে ব্যারাকপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা দখল করতে বিজেপি ১০০টা ফ্লাইট, ২০০ হেলিকপ্টার, দু’লক্ষ বহিরাগত নিয়ে এসেছে।”
বাইরে থেকে তো লোক আসছে ভোট দিতে। সব এখানকার মানুষ। তাঁদের কি ভোট দিতে দেবেন না? শুনে রাখুন, আমরা দুরন্ত খেলা খেলি। আমাদের হারানো অত সহজ নয়।

কাল রাত থেকে গদ্দার বাবু, পিরিতের বাবু, দোসর কোলাঘাট থেকে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে যাতে কেউ যেতে না পারে। আবার পশ্চিম মেদিনীপুরে রেল ব্লক করে দিয়েছে। রাস্তা ব্লক করে দিয়েছে।
সকলে দল বেঁধে ভোট দিতে যাবেন। ভেবেছে দু’দিনের জমিদারি করবে। তবে আগামী দিনে জমিদারি করতে পারবে না।

ইভিএম মেশিন খারাপ করে দেবে। একটু অপেক্ষা করবেন। নতুন মেশিনে ভোট দেবেন। চিপ ঢুকিয়ে রেখে দেবে।’
‘‘যাঁদের কাল ভোট আছে, তাঁরা দেখে নিন সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট। আপনারা রিটার্নিং অফিসারের থেকে তালিকা নিয়ে নিন। যাঁদের ভোট কেটে গিয়েছে। জেনুইন নাম— আমি সবার নাম তুলে দেব। রাজস্থান, বিহার থেকে ট্রেনে করে এসে ভোট দেবে? এ বার আটকে রাখবেন। মায়েদের দায়িত্ব দিলাম। পালাতে দেবেন না, যাঁরা ফলস্ ভোট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করবে।

আমার কেন্দ্রে কালকে আমি একটা মিটিং চেয়েছিলাম। ভবানীপুরের কলিন্স লেনে একটা ছোট্ট গলি আছে। আমি তো জৈনদের সব মন্দিরে গেছি। হিন্দুদের সব মন্দিরে যাই। আমাকে বলল, অনুমতি নেই। বললাম, ও তাই? আমি তো চা খেতে যেতেই পারি। গেলাম, গিয়ে চা খেয়ে এলাম। তুমি ঢাল-তরোয়াল নিয়ে নেমেছ। এ বার দেখবে আম যাবে, ছালা যাবে।
বাজেটে ৪% ডিএ বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন ব্যস্ততার মধ্যে ফাইনান্স সেক্রেটারি তা ইলেকশন কমিশনে পাঠালেও সেটি আটকে রয়েছে। আর ইলেকশন কমিশন চেপে রেখে দিয়েছে। নয়তো অনেক দিন আগে আপনারা পেয়ে যেতেন ২৫ পার্সেন্ট মতো।না হলে আগেই প্রায় ২৫% ডিএ মিলত। আমি বলে যাচ্ছি, এই মাসেই মাইনের সঙ্গে সেই টাকা দেওয়া হবে।

শ্রীজাতকে নাকি ফোন করেছে কেউ, ‘আপনার বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে। আপনাকে গ্রেফতার করা হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন করলাম। এ আবার কী! বাইক চলবে না। রেল বন্ধ। এগুলো ইলেকশন কমিশন করছে। বাইরে থেকে তো এখানকার লোক ভোট দিতে আসছে। তাঁদের ভোট দিতে দেবেন না?
ভিন্রাজ্যে কাজ করা মানুষরা ভোটের জন্য ফিরছেন রাজ্যে। তাঁদের গীতা-কোরান ছুঁইয়ে বলে নেওয়া হচ্ছে বিজেপিকে ভোট দিতে। এমনই দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি ‘সরাসরি’ লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ করেন।







