ওয়েব ডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সামশেরনগর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তার স্বার্থে কাঁটাতার দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ইছামতি নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড় থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হলে বহু পরিবার বসতবাড়ি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, হিঙ্গলগঞ্জে ইছামতি নদীর পাড় থেকে প্রায় ১৫০ ফুট জমি (Land) অধিগ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আটটি পঞ্চায়েতের বহু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে মৎস্যজীবী ও নদীনির্ভর মানুষের রুজি-রোজগার নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শতাধিক ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসী হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। ব্যবসায়ী সুশান্ত ঘোষের নেতৃত্বে মিছিলটি হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে পৌঁছয়।
আরও খবর : চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে জেলায় জেলায় প্রশাসনের অভিযান
সেখানে বিডিও দেবদাস গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার সিদ্ধান্তের তাঁরা বিরোধিতা করছেন না। তবে জমি অধিগ্রহণের আগে স্থানীয় মানুষের বসতবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জীবন-জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক।
স্থানীয়দের দাবি, অবিভক্ত বাংলার সময় থেকেই এই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ১৭৮৩ সাল থেকে এলাকায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত। তাই বহু বছরের পুরনো ব্যবসায়িক পরিকাঠামো ও ঐতিহ্য রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সীমান্তবর্তী মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষাও জরুরি। তাই উচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি না করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ইছামতি পাড়ের বাসিন্দারা।







