কলকাতা: কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (Kakoli Ghosh Dastidar) সরিয়ে কল্যাণকেই ফের লোকসভার মুখ্যসচেতক করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই বৈঠকেই তিনি জানিয়ে দেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবার থেকে লোকসভার মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব পালন করবেন। শুক্রবার তার পরেই কাকলি স্যোশাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন। তাঁর পোস্টে অনুযোগ এবং হতাশার সুর রয়েছে। চার দশকের আনুগত্যের এই ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কাকলি।
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পর থেকে দলের অন্দরের কোন্দলগুলি একে একে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত গড়েও তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আশাপ্রদ হয়নি। ৩৩টির মধ্যে মাত্র ৯টি আসন এসেছে ঘাসফুলের দখলে। বারাসত-সহ আশপাশের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হয়েছে। এরপরই দলের তরফে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কার্যত ক্ষমতা হ্রাস করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা।পুরনোতে আস্থা রেখেই ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই লোকসভার চিফ হুইপ করা হল। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুক্রবার সকালেই ফেসবুক পোস্টে অনুযোগ করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।কাকলি সকালের পোস্টে লিখেছেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’
আরও পড়ুন: প্রেসিডেন্সি জেলের ঘটনায় সাসপেন্ড ২ পুলিশ আধিকারিক, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী
গত বছর অগস্টে কল্যাণ আচমকাই সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তখন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে তাঁর তরজা চলছিল। মমতা তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে নেন এবং কাকলিকে ওই পদে নিয়োগ করেন। এর আগে কাকলি দীর্ঘ দিন ধরে লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা পদে ছিলেন। কল্যাণ সরে যাওয়ায় তাঁকে মুখ্যসচেতক করার পর উপদলনেতা করা হয়েছিল শতাব্দী রায়কে। এখন কল্যাণ ফের পুরনো পদে ফিরেছেন। শতাব্দী উপদলনেতা রয়েছেন। ফলে সংসদীয় দলে কাকলির আর কোনও পদ রইল না। তৃণমূলের অনেকের মতে, সেই কারণেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।







