কলকাতা: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৃণমূলের (TMC) অন্দরের দ্বন্দ্বে বড় মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল গোষ্ঠীর নেওয়া সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের স্বীকৃতিও বহাল থাকছে।
এর ফলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উপ-দলনেতা ও অন্যান্য পরিষদীয় পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপাতত নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান।
আরও পড়ুন: গরহাজিরার ‘হ্যাটট্রিক’ শেষে অবশেষে থানায় অরূপ বিশ্বাস
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে তাঁর আবেদন গ্রহণ না করে অন্তর্বর্তী পর্যায়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল আদালত। যদিও মামলার শুনানি এখনও শেষ হয়নি। আগামী জুলাই মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে নেতৃত্ব ও পরিষদীয় পদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরিষদীয় নেতা নির্বাচন ঘিরে সই জালিয়াতির অভিযোগ, দলীয় বিদ্রোহ এবং বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও বিধায়কদের একটি বড় অংশ তাঁদের নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশ করে। পরে সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন বিধানসভার স্পিকার।
হাই কোর্টের নির্দেশের পর আপাতত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আদালতের রায়ে স্বস্তির সুর শোনা গিয়েছে ঋতব্রত শিবিরে।
রায়ের পর সন্দীপন সাহা বলেন, “স্পিকারের পর হাই কোর্টও আমাদের স্বীকৃতি দিল। আমরা নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালন করে যাব।”
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা হয়েছে। আগামী ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেই অধিবেশনেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা সূত্রে খবর, তাঁর পাশেই বসবেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।







