দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জমি ও মেছো ভেড়ির মালিকানা সংক্রান্ত বিবাদ (Land Dispute) মেটাতে ডাকা শালিশি সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ (Clash) ভাঙড়ের (Bhangar) পোলেরহাট থানার অন্তর্গত ছয়ানি এলাকায়। রবিবারের এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মোট সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ছয়ানি এলাকার পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি মেছো ভেড়ি এবং সংলগ্ন জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। এলাকায় আইএসএফ (ISF) ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টির সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি শালিশি সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই বৈঠক চলাকালীনই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় দুই পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পূর্বপাড়ার ফারুক মোল্লা ও দৌলত মোল্লা গোষ্ঠীর দাবি, আইএসএফ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের মারধর করা হয় এবং তাতেই একাধিক ব্যক্তি আহত হন। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের জমি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। জমির ন্যায্য অংশ দাবি করতে গেলে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ফলে জমি-সংক্রান্ত পুরানো বিরোধ নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, পশ্চিমপাড়ার সাজ্জাত মোল্লা ও আবু হোসেন গোষ্ঠী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই মেছো ভেড়িতে মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা ভেড়ির মধ্যে নিজেদের জমি রয়েছে বলে দাবি করে অংশীদারিত্ব চাইতে শুরু করেন। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি সংঘর্ষের রূপ নেয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষ পোলেরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
দেখুন আরও খবর:







