কলকাতা: শুরু হচ্ছে বেআইনি আর্থিক লগ্নি সংস্থা সারদা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নিলামের প্রক্রিয়া। ১১ এপ্রিল নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) ওই সংস্থা বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ এক দশক পর সারদার হাতে থাকা মোট ৬৬টি সম্পত্তি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি নোটিস জারি করেছে। যার মধ্যে অধিকাংশই ভূসম্পত্তি বলে জানা গিয়েছে। ওই সম্পত্তির বাজার মূল্য আনুমানিক ৩২ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ১১ লক্ষ আমানতকারীর কাছ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি তোলা হয়েছিল অভিযোগ। গত বছর জুন মাসে কলকাতা হাইকোর্ট ওই আর্থিক সংস্থায় লগ্নিকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সেবিকে সারদা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয়। এরপরই এই নিলামের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ওড়িশায় সক্রিয় থাকা সারদা গোষ্ঠী এক সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ১১ লক্ষ আমানতকারীর কাছ থেকে ৪০০০ কোটি টাকার বেশি তুলেছিল। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: Partha-Arpita | ভার্চুয়াল হাজিরায় পার্থ-অর্পিতা নিজেদের মধ্যে কী কথা বললেন জেনে নিন
তারও আগে সারদা মামলায় ৫০০ কোটির তহবিল গড়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের কাছে রাজ্য সরকার ২৮৭ কোটি টাকা প্রতারিত আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়ার জন্য দিয়েছিল। ওই তহবিলে ১৪০ কোটি টাকা এখনও পড়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, সারদা কেলেঙ্কারিতে এখন জেলে রয়েছেন সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায়। এই কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের হেভিওয়েট নেতাদের। তা নিয়ে দীর্ঘ মামলা চলেছে। সারদার লাল ডায়েরি রাজ্য– রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তবে সারদা–সহ ৮৬টি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য শ্যামল সেন কমিশনকে দায়িত্ব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার এসেছে নিলাম পর্ব। এখন দেখার, নিলামের পর প্রতারিতরা টাকা ফেরত পান কি না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করেছিল ২০১৩ সালেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে সুপ্রিম কোর্ট এই কেলেঙ্কারির পিছনে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের খোঁজ মেলেনি। এই কেলেঙ্কারির জন্য কয়েক হাজার মানুষ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। বহু আমানতকারী এবং এজেন্ট আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি হুমকি দিয়েছিলেন, সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িত কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তৃণমূলের গোটা কয়েক নেতাকে গ্রেফতার করেই সিবিআই কার্যত তদন্তে ইতি টানে। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সেটিংয়ের কারণেই সারদা তদন্ত মাঝপথেই থমকে গিয়েছে।