Saturday, February 7, 2026
HomeScrollমুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচমেন্ট? বড় ইঙ্গিত দিলেন মমতার
Mamata Banerjee

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচমেন্ট? বড় ইঙ্গিত দিলেন মমতার

গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে না পেরে পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করা হচ্ছে, অভিযোগ মমতার

নয়াদিল্লি: দিল্লির চাণক্যপুরীতে নিউ বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকের শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এসআইআর করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন SIR-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবাদের সদস্যরাও। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ভোটের আগে পরিকল্পনা ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে কেন SIR করা হল? উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাংলায় SIR হচ্ছে। ERO-এর অনুমোদন না নিয়েই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ। জীবিত হওয়া সত্ত্বেও মৃত বলে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত কমিশনের আধিকারিকদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু এই কমিশনের মাথায় যে, সে তো প্রতিহিংসামূলক ভাবে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে।

জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে সরব হয়ে মমতা বলেন, “আমি চাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট হোক। তবে আমাদের সংখ্যা নেই। কিন্তু রেকর্ড থাকবে। রাহুল গান্ধী বলেছেন পরে আইন এনে শাস্তি দেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয়, প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়। আমরাও চাইব তাঁর ইমপিচমেন্ট হোক। কিন্তু, ইমপিচমেন্ট তো হতে পারে। ধারা তো রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে। উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করি। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘SIR-এর নামে তাণ্ডব চলছে বাংলায়। SIR-এর কারণে চাপ সহ্য করতে না পেরে BLO-রা আত্মহত্যা করছে। BLO-দের মাঝরাতেও ডেকে পাঠানো হচ্ছে। SIR-এর নামে বাংলায় ভ্যান্ডালিজম চালানো হচ্ছে। এটা NRC-র থেকে ভয়াবহ। বোলতে ঝুট- করতে লুট। বাংলার কোনও বকেয়া মেটাচ্ছে না। শুধু বাংলা নিয়ে ন্যারেটিভ প্রচার করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় টাকা ঢালছে।প্রকৃত ভোটারদেরও নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এত নথি চাইছে, লোকে ট্রাঙ্ক মাথায় করে সব কাগজ নিয়ে শুনানিতে পৌঁছে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিজের কাজ লুকোতে লিখিত ভাবে কোনও নোটিস দিচ্ছে না। সব হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি। পদবির ইংলিশ ও বাংলা উচ্চারণ আলাদা হলেও শুনানিতে ডাক পড়ছে।’

আরও পড়ুন: লাদাখ ইস্যুতে ফের উত্তাল লোকসভা! ‘সাসপেন্ড’ ৮ কংগ্রেস সাংসদ

মুখ্যমন্ত্রীর কমিশনকে নিশানা করে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩৩ শতাংশ। সেই ৩৩% সংখ্যালঘুর নাম নাকি বাদ দিয়ে দেবে। ভবানীপুরে ৪০ হাজার নাম বাদ। বন্দর এলাকায় ৭০ হাজার নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে। মতুয়াদের থেকে ভোট নিয়ে এখন বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’তিনি বলেন,‘তৃণমূল কংগ্রেসকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের দলের পেপার চুরি করা হচ্ছে। আমাদের দলের লোককে জেলে ভরে দিচ্ছে। এজেন্সিকে ব্যবহার করে চলেছে। বিজেপির সাধু-সন্তরা সব ঘরে চোর ডাকাত বসিয়ে রেখে পার পেয়ে যাচ্ছে।’মমতা আরও বলেনম, নির্বাচন কমিশনেও আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা ফুল দিয়েছি, উনি অপমান করেছেন। চিৎকার করেছেন। ওরা বিজেপির হয়ে কাজ করছে। কাল প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। উল্টে থ্রেট করছিল। কালও চিৎকার করছিল। আগের দিনও আঙুল তুলেছিল। আমিও বলেছি গলা নামিয়ে কথা বলুন। আমরা আপনার স্লেভ নই।’

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘বাংলায় সুপার ইমারজেন্সি চালাচ্ছে এরা- সরকারকে কোনও কাজ করতে দিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন তো আমাদের ছয় মাস সময় নিয়ে নিল। সরকারি কর্মী, শিক্ষকরা সব SIR-এর কাজে ব্যস্ত। গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে না পেরে পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূলের ‘রণকৌশল’ নিয়ে মমতার বলেন, ‘‘আমরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।’’ তৃণমূলনেত্রীর কথায়, ‘‘নাম বাদ গেলে প্রভাব তো পড়বেই। তবে তা নিয়ে লড়াই হবে। আমাদের কী রণকৌশল হবে, তা পরে জানানো হবে।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে মমতা বলেন, আমি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই। তবে আমার মনে হয় আরও বেশি আসনে জিতব।বিজেপি বাংলায় আসবে না। বিজেপির লোক আমায় ভোট দেবেন।

Read More

Latest News