কলকাতা:চায়ের কাপে এক চুমুকেই যেন লুকিয়ে থাকে প্রাণখোলা আনন্দ, অফুরান গল্প আর আড্ডার মুহূর্ত। বাঙালি জীবনের এই চিরন্তন আবেগকে সঙ্গী করেই দক্ষিণ কলকাতার গল্ফ গার্ডেন্সে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ক্যাফে ‘চুমুক–চায়ের আড্ডা’(Cafe ChumukCafe Chumuk)। পুরনো ‘ইটস মাই লাইফ ক্যাফে’ এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপ, আধুনিক সাজসজ্জা এবং জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের মেনু নিয়ে পথচলা শুরু করল।
পুজোর মরশুমে বাজেট-বান্ধব খাবার, চা এবং গানের আড্ডা নিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করল ক্যাফে ‘চুমুক’। মহালয়ার ঠিক প্রাক্কালে এবং শারদোৎসবের আমেজকে সামনে রেখেই ক্যাফেটিতে আয়োজিত হয় এক বিশেষ পুজো মেনু লঞ্চ অনুষ্ঠান। তরুণ প্রজন্মের পছন্দের কথা মাথায় রেখে ক্যাফের অন্দরমহল সাজানো হয়েছে পিন্টারেস্ট-অনুপ্রাণিত নান্দনিক নকশায়। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর পকেটসই বাজেট—মাত্র ২৫০ টাকায় দু’জনের খাওয়ার বন্দোবস্ত থাকায় পকেটে টান না পরেই জমে উঠবে আড্ডা।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য পরিবেশন করা হয় একঝাঁক সুস্বাদু পদ। মেনুতে ছিল ভেজ মোমো থুকপা, চিকেন পেস্টো স্যান্ডউইচ, চিকেন রাইস বোল, ফার্ম ফ্রেশ পিৎজা, ম্যাগি ঝালফ্রেজি, চিজ চিলি টোস্টিজ, ফ্রায়েড চিকেন ড্রামস্টিকস এবং চকোলেট সস সহযোগে হাউস স্পেশাল ব্রাউনি। পুজোয় প্যান্ডেল হপিংয়ের ফাঁকে অল্প সময়ে জিভে জল আনা খাবার উপভোগ করার কথা মাথায় রেখেই এই মেনু সাজানো হয়েছে।
খাবারের পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সংগীতানুষ্ঠান। বিশিষ্ট শিল্পী অ্যানি আহমেদ ও তাঁর ব্যান্ড ‘সুরভানা’-র মনোজ্ঞ পরিবেশনা গোটা অনুষ্ঠানটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। গান, চা ও সুস্বাদু খাবারের মেলবন্ধনে জমজমাট হয়ে ওঠে ক্যাফের নতুন যাত্রার সূচনা।
ক্যাফের অন্যতম কর্ণধার মহুয়া ভট্টাচার্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, “আমাদের ক্যাফেতে শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, প্রবীণরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের চা ও পানীয়ের স্বাদ নিতে অনেকেই দারুণ আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
সব মিলিয়ে, পুজোর মরশুমে চায়ের কাপে চুমুক, বন্ধুদের উষ্ণ আড্ডা আর সাশ্রয়ী মূল্যের মুখরোচক খাবার নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার ফুড ম্যাপে এক নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে ‘চুমুক’।







