ওয়েব ডেস্ক: কোচিং সেন্টারের বাইরে গুলি চলার ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন জনপ্রিয় শিক্ষক তথা ‘খান স্যর’ (Khan Sir)। মঙ্গলবার পটনা জেলা আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন খান স্যর। সেই আবেদন মঞ্জুর করেই তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে খান স্যরকে। পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে বলপূর্বক গ্রেফতার বা অন্য কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শতাব্দীর বাড়িতে ‘চা-চক্রে’ বিদ্রোহী সাংসদরা, উপস্থিত হলেন শুভেন্দু
সূত্রের খবর, শুনানির সময় আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে মামলার কেস ডায়েরি ও সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। যদিও এই মামলার অন্য অভিযুক্ত তথা খান স্যরের প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের মালিক রোশন আনন্দের জামিনের আবেদন নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেই বিষয়ে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। অভিযোগ, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল খান স্যরের কোচিং সেন্টারে হামলা চালায়। ভাঙচুরের পাশাপাশি ইট-পাথর ছোড়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পটনা জুড়ে।
হামলার পরদিন কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কদমকুঁয়া থানায় এই ঘটনায় এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।
খান স্যরের অভিযোগ, তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলার নেপথ্যে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষক রোশন আনন্দ। উল্লেখ্য, পটনার মুসল্লাপুর এলাকার কিসান কোল্ড স্টোরেজ চত্বরকে বিহারের অন্যতম কোচিং হাব হিসেবে ধরা হয়। ২০১৮-১৯ সাল থেকে সেখানে ২০টিরও বেশি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। খান স্যর ও রোশন আনন্দ— দু’জনেরই কোচিং সেন্টার ওই এলাকাতেই অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড পরবর্তী সময়ে বহু কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলেও খান স্যর ও রোশন আনন্দের প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিল। তবে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।







