নয়াদিল্লি: বিয়ের আগে দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক থাকলেই তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না। তেলেঙ্গানার (Telengana) এক পুলিশকর্মীর চাকরি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সমাজ বদলেছে, সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলেছে। তাই পুরনো ধ্যানধারণা দিয়ে ব্যক্তির চরিত্র বিচার করা উচিত নয়।
মঙ্গলবার বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চে তেলেঙ্গানার কনস্টেবল গজুলা তিরুপতির মামলার শুনানি হয়। গজুলার বিরুদ্ধে এক সময় তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের জেরে চাকরি হারাতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরে অভিযোগ প্রত্যাহার হয়ে যায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয় মামলা।
আরও পড়ুন: কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, হাজির জুন-শিউলি-দেব
শুনানির সময় প্রশ্ন ওঠে, বিয়ের আগে কোনও ব্যক্তি শারীরিক সম্পর্কে জড়ালে তা কি তাঁর চরিত্রের পরিমাপক হতে পারে? এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, সব প্রেমের সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত পৌঁছয় না। তাই কোনও সম্পর্ক ভেঙে গেলেই সেটিকে প্রতারণা বা অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না।
বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক যদি স্বেচ্ছায় সম্পর্কে জড়ান, তবে সেই সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তাঁদের চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা যায় না। অবিবাহিত ব্যক্তি নিজের পছন্দমতো সম্পর্কে জড়াতে পারেন, আইনে তার কোনও বাধা নেই।”
আদালত আরও জানায়, বর্তমান সমাজে বিয়ের আগেও সম্পর্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির সততা বা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই মামলায় শেষ পর্যন্ত গজুলা তিরুপতির চাকরি ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আদালতের এই মন্তব্য সামাজিক ও আইনি মহলেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







