ওয়েব ডেস্ক: পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে মহাকাশে (Space) মানব বসতি। এই স্বপ্ন এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়। চাঁদ (Moon) বা মঙ্গলে (Mars) স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা চলছে জোরকদমে। তবে সেই স্বপ্নের পথেই বড় প্রশ্ন তুলে দিল সাম্প্রতিক একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা মহাকাশে কি আদৌ স্বাভাবিকভাবে মানুষের বংশবিস্তার সম্ভব (reproduction in microgravity)?
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহাকাশের শূন্য বা অতি-ক্ষুদ্র মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) মানুষের প্রজনন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে যাওয়া এবং ডিম্বাণুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা সামনে এসেছে। ফলে নিষেকের প্রক্রিয়াই কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল তেল রফতানি বন্ধ করছে রাশিয়া! ভারতের উপর কতটা প্রভাব পড়বে?
শুধু নিষেক নয়, ভ্রূণের বৃদ্ধিও মহাকাশে বড় চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর মতো সুরক্ষা না থাকায় মহাজাগতিক বিকিরণ সরাসরি শরীরে প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিকিরণ ভ্রূণের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে জন্মগত ত্রুটি বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে। ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরনের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। পাশাপাশি হাড় ক্ষয়, পেশি দুর্বল হওয়া এবং রক্তসঞ্চালনের পরিবর্তন প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নাসার ‘আর্টেমিস’ বা বেসরকারি সংস্থার মঙ্গল অভিযানের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি বসতি গড়তে গেলে স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান তথ্য বলছে, কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ ছাড়া তা কার্যত অসম্ভব।
মহাকাশ জয় করার স্বপ্ন যতই এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে মানবদেহের সীমাবদ্ধতা। ভিনগ্রহে মানুষের টিকে থাকার প্রশ্নে প্রজননই এখন সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জগুলির একটি।







