কলকাতা: লিওনেল মেসির (Lionel Messi) কলকাতা সফর বিতর্কে নয়া অধ্যায়। বিতর্ক উস্কে উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের (Shatadru Dutta) অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানা। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনিয়ম, টিকিট কালোবাজারি এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। শনিবার রাতে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এই মামলা নথিভুক্ত করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অভিযোগকারী মেসি ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। গত ১৭ মে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে টিকিট কালোবাজারি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।
শতদ্রু দত্তের দাবি, মেসি ইভেন্টকে কেন্দ্র করে প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই প্রাক্তন মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক মেসি ইভেন্ট সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। সেই আবহেই এফআইআর দায়ের হওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। এফআইআরের কপি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সত্যমেব জয়তে”।
পোস্টে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ তিনি তুলে ধরছিলেন, অবশেষে তা তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর মেসি ইভেন্ট নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ ছিল, অনুষ্ঠানের সময় প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই মাঠে নেমে লিওনেল মেসির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। শুধু অরূপ বিশ্বাসই নন, জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। শতদ্রুর দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি করা হয়েছিল, যার ফলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ায় বিষয়টি যে রাজনৈতিক মাত্রা পেতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলের।







