ওয়েব ডেস্ক : গালওয়ান (Galwan incident) উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঠিক এক সপ্তাহ পরেই কি গোপনে পরমাণু পরীক্ষা (Nuclear test) চালিয়েছিল চীন (China)? এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল আমেরিকা (America)। শুক্রবার জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সম্মেলনে প্রথম বার প্রকাশ্যে এই দাবি করেন মার্কিন বিদেশ দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস ডিন্যানো (Thomas DiNanno)।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের ২২ জুন চীন (China) গোপনে একটি পরমাণু পরীক্ষা করেছিল। উল্লেখযোগ্য ভাবে, তার ঠিক সাত দিন আগেই লাদাখের গালওয়ান (Galwan incident) উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে শহিদ হয়েছিলেন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। সেই সংঘর্ষ ছিল কয়েক দশকের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা। একাধিক পোস্টে ডিন্যানো দাবি করেন, আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ‘ডিকাপলিং’ নামে একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছিল চীন। যাতে বিস্ফোরণের সময় সৃষ্ট কম্পন বা সিসমিক সিগন্যাল অনেকটাই দুর্বল হয়ে যায়
আরও খবর : এফস্টাইটেন সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল দলাই লামার? বিবৃতি দিল বৌদ্ধ ধর্মগুরুর কার্যালয়
যদিও আমেরিকা সরাসরি এই পরীক্ষার সঙ্গে গালওয়ান (Galwan incident) সংঘর্ষের যোগসূত্র টানেনি। তবু সময়কাল ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। তখন পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ব্যাপক সেনা সমাবেশ চলছিল। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছিল চরম উত্তেজনা। একাংশ ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, পরমাণু পরীক্ষার মতো বিষয়ের জন্য দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সেই হিসেবে গালওয়ানের সংঘর্ষ এবং তার জেরে বিশ্বজুড়ে নজর কাড়া পরিস্থিতি চীনের কাছে ‘ঢাল’ হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে।
এই অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এল, যখন আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে শেষ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন, ভবিষ্যতের যে কোনও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে চীনকেও (China) অন্তর্ভুক্ত করতে। চীনের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়েও উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। অনুমান, বেজিংয়ের হাতে প্রায় ৬০০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চীন ও পাকিস্তান গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে।
যদিও চীন এই অভিযোগ মানতে চায়নি। রাষ্ট্রপুঞ্জে চীনা রাষ্ট্রদূত শেন জিয়ান বলেন, “চীন সব সময় দায়িত্বশীল ভাবে পরমাণু নীতি অনুসরণ করেছে। তথাকথিত ‘চীনের পরমাণু হুমকি’ নিয়ে আমেরিকার প্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” উল্টে তিনি আমেরিকাকেই অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য দায়ী করেন।
দেখুন অন্য খবর :






