HomeScrollপানিহাটি পুরসভার শাখা অফিসে ‘ভূতুড়ে সই’ কাণ্ড! কাজে না এসেও বেতন, দুর্নীতির...
Panihati

পানিহাটি পুরসভার শাখা অফিসে ‘ভূতুড়ে সই’ কাণ্ড! কাজে না এসেও বেতন, দুর্নীতির অভিযোগে সরব বিজেপি

আগরপাড়া-উসুমপুর বটতলার শাখা অফিসে রেজিস্টারে সই, অথচ কর্মীদের দেখা নেই, তদন্তে ঘোলা থানার পুলিশ

পানিহাটি: পানিহাটি (Panihati) পুরসভার একটি শাখা অফিসে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, তৃণমূল (TMC) আমলে নিয়োগ পাওয়া একাধিক কর্মী নিয়মিত কাজে না এসেও সরকারি বেতন পেয়ে যাচ্ছেন। অথচ হাজিরা খাতায় তাঁদের সই রয়েছে নিয়মমাফিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে এলাকায়।

আগরপাড়া উসুমপুর বটতলায় অবস্থিত পানিহাটি পুরসভার শাখা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিস কার্যত ফাঁকা। কর্মীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কিন্তু হাজিরা রেজিস্টার খাতায় নিয়মিত সই করা রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই রেজিস্টারের নথি সামনে আসতেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: পালা বদলের পরেও আক্রান্ত বিজেপি কর্মী, তৃণমূল নেতার অনুগামীদের বিরুদ্ধে বন্দুকের বাট দিয়ে মারধরের অভিযোগ

অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের সময় কাউন্সিলার-ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীকে ওই শাখা অফিসে কাজ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন অফিসে না এলেও নিয়মিত বেতন পেয়ে গিয়েছেন। হাজিরা খাতায় সই থাকার কারণে বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা ছিল বলেই দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যদি কর্মীরা অফিসে না এসে থাকেন, তাহলে হাজিরা খাতায় সই করলেন কে? এই ‘ভূতুড়ে সই’ কাণ্ড ঘিরেই সরব হয়েছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শাখা অফিসে পৌঁছয় ঘোলা থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি হাজিরা রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই নথি খতিয়ে দেখে কারা সই করেছেন এবং আদৌ কর্মীরা অফিসে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বিজেপি নেতা স্বপন দাস দাবি করেছেন, “কাজে না এসে বেতন নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

অন্যদিকে, এক পুরকর্মীও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুর কর্তৃপক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন নজর পুলিশের তদন্তে। হাজিরা খাতার তথ্য এবং বেতন সংক্রান্ত নথি মিলিয়ে দেখার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News