কলকাতা: আইপ্যাক সংক্রান্ত (I-PAC Case) ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি আপাতত পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা ছিল। এদিন শুনানির শুরুতেই ইডির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন জানান। সেই আর্জি মেনে নিয়ে বেঞ্চ মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালত নতুন শুনানির দিনও ধার্য করে দিয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি।
ইডি অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে FIR দায়েরের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায়। গত ১৫ জানুয়ারি শুনানিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র ও বিচারপতি এভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ রাজ্য সরকার–সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস দিয়ে জবাব তলব করে। সেই প্রেক্ষিতে ৩৪ পাতার হলফনামা জমা দিয়েছে রাজ্য।
আরও পড়ুন: কয়লা–বালি পাচার কাণ্ডে ভোরবেলা ঝটিকা অভিযানে ইডি!
রাজ্যের তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছে,
-
ইডির তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রী কোনও বাধা দেননি
-
কোনও নথি ছিনতাই করা হয়নি
-
সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই কিছু নথি দেখা ও নেওয়া হয়েছিল
-
ইডি একতরফাভাবে তল্লাশির সিদ্ধান্ত নিতে পারে না
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে ইডির পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি প্রশ্নসাপেক্ষ। তাই ইডির FIR সংক্রান্ত আর্জির গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেই সওয়াল করেছে রাজ্য।
এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার, সদ্য প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা-সহ কয়েকজন পুলিশ কর্তার নাম উল্লেখ করেছে ইডি।
অন্যদিকে আগের শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছিল এবং স্থানীয় থানাকে আগাম ই-মেল করে জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই পদক্ষেপের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। রাজ্যের হলফনামার জবাব দিতে সময় চেয়েছে ইডি। মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর।







