ওয়েব ডেস্ক: চারদিকে শুধু জল। মাথার উপর নীল আকাশ। সামনে পিচঢালা রাস্তা, কিন্তু নেই কোনও মোড়, দোকানপাট কিংবা জনবসতি। যত দূর চোখ যায়, একই দৃশ্য। এমন রাস্তায় টানা গাড়ি চালাতে গিয়ে চালকের মাথা ঘুরে যায়, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই দাবি ঘুরছে। আরও চমকপ্রদ দাবি, আমেরিকার এই সেতু একা গাড়ি চালিয়ে পার করতে পারলেই নাকি মিলবে ৫০ হাজার ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা!
বাস্তবে অবশ্য গল্পটা একেবারেই অন্য। ভাইরাল হওয়া এই দাবির কোনও সরকারি বা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। আমেরিকার লুইজিয়ানার বিখ্যাত Lake Pontchartrain Causeway-কে ঘিরেই ছড়িয়েছে এই গুজব। সেতুটি মেটাইরি ও ম্যান্ডেভিল এলাকাকে সংযুক্ত করেছে এবং জলপথের উপর নির্মিত দীর্ঘতম সেতুগুলির অন্যতম।
দুটি সমান্তরাল রাস্তা মিলিয়ে কজওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ মাইল বা ৩৯ কিলোমিটার। স্বাভাবিক যান চলাচল ও আবহাওয়ায় এই দীর্ঘ পথ পেরোতে প্রায় আধ ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দীর্ঘক্ষণ চারপাশে একই রকম দৃশ্য দেখতে দেখতে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অন্যরকম।
তবে ‘সেতু পার হলেই পাগল হয়ে যাওয়া’ বা ৫০ হাজার ডলার পুরস্কারের গল্প নিছকই সোশ্যাল মিডিয়ার রসালো সংযোজন। দীর্ঘ, একঘেয়ে এবং প্রায় একই রকম দৃশ্যের রাস্তায় চালকদের ক্লান্তি বা মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। যাকে অনেক সময় ‘হাইওয়ে হিপনোসিস’ বলা হয়। এতে চালকের প্রতিক্রিয়ার সময় কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই রোমাঞ্চ থাকলেও সতর্কতা জরুরি। দীর্ঘ পথ একা গাড়ি চালালে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং মনোযোগ ধরে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার নয়, এই সেতুর আসল আকর্ষণ তার বিস্ময়কর দৈর্ঘ্য এবং জলরাশির বুক চিরে এগিয়ে চলার অভিজ্ঞতা।







