নয়াদিল্লি: সংসদ অভিযানের আগে অবস্থানে নরম সুর। তবে অনশন প্রত্যাহারের জন্য স্পষ্ট তিনটি শর্ত বেঁধে দিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। সোমবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, সরকারের তরফে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হলে তবেই দীর্ঘ অনশন ভাঙবেন (Hunger Strike)।
চিঠিতে ওয়াংচুক লিখেছেন, তিনি ২০ জুলাই অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন যদি সরকার শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বকে সংসদে প্রবেশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-সাংসদদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিতে হবে। আর যদি শারীরিক কারণে তাঁর পক্ষে সংসদে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দিতে হবে।
আরও পড়ুন: সংসদ অভিযানের আগে সুর নরম? ‘প্রথম বার যোগাযোগ করেছে কেন্দ্র’, দাবি CJP-র
এর আগে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আঙ্গমোও জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক মহল থেকে ইতিবাচক আশ্বাস মিললে অনশন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ইঙ্গিতের পর এবার নিজেই শর্তগুলি স্পষ্ট করে দিলেন ওয়াংচুক।
উল্লেখ্য, শনিবার যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি কোনও ধরনের খাবার বা তরল গ্রহণ করেননি। চিকিৎসকদের অনুরোধ সত্ত্বেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সোমবারই CJP-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি। সেই অভিযানে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তবে দিল্লি পুলিশ সংসদ ভবনের দিকে মিছিলের অনুমতি দেয়নি। সংসদ চত্বরের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা এগোলে পুলিশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে অনশন, সংসদ অভিযান এবং সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ—এই তিনকে ঘিরেই সোমবার দেশের রাজনৈতিক নজর এখন রাজধানী দিল্লিতে।






