পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) দাসপুরে (Daspur) এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বছরের পর বছর বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২১ সাল থেকে ওই অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা ঢুকছিল। বিষয়টি সম্প্রতি নজরে আসার পর প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার। ঘটনায় সরকারি প্রকল্পের আবেদন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
ঘটনাটি দাসপুর থানার গোছাতি এলাকার। স্থানীয় সূত্রে খবর, গোছাতি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কেশব ঘোড়ই ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্থানীয় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে জমা দিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তার পর থেকেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়তে শুরু করে। দীর্ঘ দিন বিষয়টি পরিবারের নজরে আসেনি বলে দাবি।
আরও খবর : নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের কারণ কী? স্যাটেলাইট ছবিতে মিলল বড় সূত্র
সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যেরা ওই ভাতা বন্ধ করার জন্য ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেন। একই সঙ্গে কী ভাবে এই ভুল হল, তা খতিয়ে দেখার আর্জিও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা প্রশান্ত বেরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে কী ভাবে বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়ছে?’’ তাঁর দাবি, জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন থেকে শুরু করে সরকারি স্তরে অনুমোদন—পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ঘটনার তদন্ত করা হবে। তদন্তের পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
কী ভাবে এক জন পুরুষের নামে বিধবা ভাতার সুবিধা অনুমোদিত হল, নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোথায় ভুল হয়েছিল এবং এত দিন ধরে কী ভাবে বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেল—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছে প্রশাসন।







