মনে আছে ২০১৪, প্রতিটা নির্বাচনী জনসভাতে মোদিজী বলে বেড়াচ্ছেন কালা ধন ওয়াপস লায়েঙ্গে, সেই সব লুঠেরাদের নাকি গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরানো হবে আর সব কালাধন এসে গেলে হরেক কে খাতে মে ইউঁহি পন্দ্রহ পন্দ্রহ লাখ। তো মোদিজী যাঁদের ফেরাবেন বলেছিলেন, তাঁরা এখন রেস্তঁরায় বসে জন্মদিন পালন করছেন। ৭০ বছরে পা দিলেন বিজয় মালিয়া। বন্ধুর অনারে লন্ডনের বেলগ্রেভ স্কোয়্যারের অভিজাত আবাসনে চোখ ধাঁধানো প্রি-বার্থ ডে পার্টি দিয়েছিলেন ললিত। গত ১৬ ডিসেম্বরের পার্টিতে আসা ৩০০ জন অতিথির প্রায় সকলেই হু’জ় হু। সেখানে ছিল দামি বিদেশি মদ ও জিভে জল আনা সব স্পেশাল ডিশ! মহার্ঘ সেই ফ্রেঞ্চ ওয়াইনেরই দাম নাকি সাড়ে ছ লক্ষ টাকা, হ্যাঁ প্রতি বোতল। ওই পার্টিতেই হাজির ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফোটোগ্রাফার জিম রাইডেল, বাইকনের প্রতিষ্ঠাতা কিরণ মজুমদার শ’, অভিনেতা ইদ্রিস এলবা, ফ্যাশন ডিজ়াইনার মনোভিরাজ় খোসলার মতো অনেকেই। জিম রাইডেল পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘বিজয় মালিয়ার ৭০তম জন্মদিনের আগে তাঁর জন্য লন্ডনের বাড়িতে এমন দুর্দান্ত পার্টি আয়োজনের জন্য ললিতকে ধন্যবাদ।’ পাল্টা তাঁর জবাবে প্রাক্তন আইপিএল কর্তা লেখেন, ‘বন্ধু বিজয় মালিয়ার জন্মদিনের আগে আমার বাড়িতে এসে উৎসবে সামিল হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।’ তবে এই প্রথম নয়, সপ্তাহখানেক আগেই ললিতের জন্মদিন উপলক্ষেও জমিয়ে আনন্দ করতে দেখা গিয়েছিল দুই বন্ধুকে। লন্ডনের মেফেয়ারের এক অভিজাত ক্লাবে উড়েছিল কোটি কোটি টাকা। ওই ক্লাবে একটি টেবিল বুকিংয়েই খরচ হয় ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। সেই পার্টির এক মাস পেরোনোর আগেই আবার হুল্লোড়। টাকা ওড়ানোর। দেশের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোরও? সেই পার্টিরই একটা ভিডিয়ো ক্লিপ শেয়ার করে কার্যত ভারত সরকারকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়তে শোনা গেল ‘ফিউজিটিভ’ ললিত মোদিকে। ভিডিয়োতে তাঁকে স্পষ্ট বলতে শোনা গিয়েছে— ‘আমরা দু’জন পলাতক। ভারতের সবচেয়ে বড় পলাতক।’ এখানেই শেষ নয়, ক্যাপশনেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ললিত। সেখানে লিখেছেন, ‘চলুন, আবার ইন্টারনেট মাতিয়ে দেওয়ার মতো কিছু করি। আপনাদের জন্য। সবাই হিংসায় জ্বলুক।’ ললিত ও বিজয়কেই শুধু নয়, একজন ভাগোড়াকেও দেশে ফিরিয়ে এনে কাঠগড়ায় তোলার লাগাতার চেষ্টা করেও ভারত সরকার কিন্তু এখনও হালে পানি পায়নি। অনেকে বলছে সরকার নাকি সিরিয়াসলি সেটা চায়ও না, তাঁদের বেশি ঘাঁটালে নাকি অনেক সত্যি বাইরে এসে যাবে। আমাদের মনে আছে, মিত্রোঁ, ক্ষমতা পেলে সবকটাকে দেশে ফেরাবো, তাদের সুইস ব্যাঙ্কের টাকা দেশে ফেরাবো। তা এই ৩৮ জনের কজন দেশে ফিরেছেন? কেবল পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকা মেরে বিদেশে পালিয়েছে নীরব মোদি, মোদিজীর মেহুল ভাই। বিজয় মালিয়া তো শুরুতেই, এবং ওই ওয়াদা যা দেশ কা চৌকিদার প্রত্যেক জনসভায় করেছিলেন, কেয়া হুয়া তেরা ওয়াদা? ও কসম, ও ইরাদা? গজনি বনে গেছেন, মুখে রা নেই। কই বলেছি নাকি? তাই কবে? শিশু ভোলানাথ। বিজয় মালিয়া, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ৯০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে শোধ না করে, কেটে পড়েছে।
নীরব মোদি, তার বৌ অমি মোদি, ভাই নেশাল মোদি আর কাকা আমাদের নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদিজীর মেহুল ভাই, মেহুল চোকশি, এরা মিলে ১২৬৩৬ কোটি টাকার জোচ্চুরি করেছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সঙ্গে, যতীন মেহেতা, উইনসাম ডায়মন্ডের মালিক ৭০০০ কোটি টাকার ঘাপলা, আই পি এল এর ললিত মোদি ১২৫ কোটি টাকার ঘাপলা, স্টারলিং বায়োটেক লিমিটেড এর দুই ডিরেক্টর, চেতন জয়ন্তিলাল সান্দেসারা আর নিতীন জয়ন্তিলাল সান্দেসারা, ৫০০০ কোটি টাকার জোচ্চুরি করেছে, আশিস জবানপুত্র, এ বি সি কটস্পিন প্রাইভেট লিমিটেডের ৭৭০ কোটি, হীরে ব্যবসায়ী রীতেশ জৈন ১৫০০ কোটি, সুরেন্দ্র সিং, অঙ্গদ সিং, হরসাহিব সিং ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স থেকে ৩৯০ কোটি তুলে ধাঁ, সঞ্জয় ভান্ডারি ১৫০ কোটি টাকা ট্যাক্স না দিয়ে পগার পার, সরকার বসে আছে, ইডি তো এসবের কথা জানে বলেও মনে হয় না। ওদিকে নীরব মোদী কে লন্ডনের রাস্তায় দেখা গ্যালো, ১০ হাজার পাউন্ডের জ্যাকেট পরে ঘুরতে। ২০১৫ র ওয়াদা চৌকিদার তো ভুলেই মেরে দিয়েছেন, আমরা ভুলি নি।সারা ভারতের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন, মোদি জামানার শুরুতেই বিজয় মালিয়া দেশ ছেড়ে পালালো, কত টাকার ঘাপলা? ৭৫০৫ কোটি টাকা, লন্ডনে আছেন, ক্রিকেট খেলা দেখতে যান, লোকজন জানিয়েছে সকালে রেস্তঁরায় ফিস এন চিপস খেতে দেখা যায় ওনাকে, রাতে অভিজাত বার এন্ড রেস্তঁরায়। এরপর মোদিজীর মেহুল ভাই, মেহুল চোকসি, ৭০৮০ কোটি টাকার ঘাপলা, আপাতত আন্টিগুয়ায়, পাইন অ্যাপেল জুস দিয়ে মালেব্যু খাচ্ছেন, পাশে বান্ধবীরা। এরপর যতীন মেহেতা, ঘাপলা ৬৫৮০ কোটি টাকার, আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিজ দ্বীপপুঞ্জে বিশাল বাংলোবাড়িতে অবসর জীবন যাপন করছেন, খবরে প্রকাশ, কিছুদিন আগে এক বলিউড অভিনেত্রী সেখানে দিন ১৫ হলিডে কাটিয়ে এসেছেন। উমেশ পারেখ, কমলেশ পারেখ, নীলেশ পারেখ শ্রী গণেশ জুয়েলারি হাউসের মালিক, ঘাপলা ২৬৭২ কোটি টাকা, তিনজনের দুজন দুবাই, একজন কেনিয়াতে আছেন, বুঝতেই পারছেন, বহাল তবিয়তে আছেন। ললিত মোদি, আই পি এল খ্যাত এই মোদিজীর ঘাপলা ১৭০০ কোটি টাকার, বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ বিদেশমন্ত্রী থাকাকালীন ইনি পাসপোর্ট বার করে বিদেশে চলে যান, তারপর থেকে ইউনাইটেড কিংডমেই থাকেন, বেড়াতে যান মালদ্বীপ, সুইজারল্যান্ড, কে আটকাচ্ছে? রীতেশ জৈন, ঘাপলা ১৪২১ কোটি টাকার, কোথায় আছে, উইকিপিডিয়াও জানে না, ইডি ও জানে না। রাজিভ গয়াল, অলকা গয়াল, সুর্য ফার্মাসিউটিক্যাল এর ঘাপলার পরিমাণ ৭৭৮ কোটি, এনারাও কোথায় আছেন কেউ জানে না। আশিস জোবানপুত্র, ৭৭০ কোটি টাকার তছরুপ, লুকিয়েয়াছেন কোথায়, কেউ জানে না, কিন্তু দেশে নেই এটা সবাই জানে। ইডি এনাদের কথা জানে না, মাঝে মধ্যে খবর হয়, এই নীরব মোদি ফেরত এলো, এই বিজয় মালিয়া ফেরত এলো, ছোটরা না খেলে মা ঠাকুমা পিসিরা বলেন খেয়ে নে নাহলে মামদো ভুত আসবে, পুলিশ আসবে, সেরকম একটা কিছু। কিন্তু সে তো না হয় চোর চোট্টা লুঠেরাদের কথা, এবার চলুন আরেক অন্য কাহিনী শোনাই, যে কাহিনী দেশ জুড়ে, দেশ জুড়ে এক নতুন স্বপ্নের জন্ম হয়েছে গত ১০/১২ বছরে, চলো বিদেশে চলো, এদেশে আছে টা কী? কাজেই ছাত্র সে গবেষণা করছে, চেষ্টায় আছে বিদেশে চলে যাবার, বিজ্ঞানী সে চেষ্টা চালাচ্ছে বিদেশে যাবার, ব্যবসায়ী, টাকা জমেছে কিছু, নতুন বিলিয়নিয়ার, স্বপ্ন দেখছে বিদেশে যাবার। এমনকি মুকেশ আম্বানি এই ভারতেই দেদার ব্যবসা করেন, উনি চাইলে সরকার মাথায় করে ওনার যেমন পছন্দ তেমন জমি ওনার শর্তে ওনাকে দিতে প্রস্তুত, হুজুর ঘাড় নাড়িয়া দেখাইলেই হইবে, উপর বা নীচ যে কোনও ছিদ্র হইতে যে কোনও শব্দ বার করিলেই হইবে, কেবল বলিলেই হইবে যে আমি শিল্প স্থাপন করতে চাই। এ নিয়ে কারোর কোনও সন্দেহ থাকলে নিউরো সার্জন দেখান বা গোবরা মেন্টাল হাসপালে গিয়ে ভর্তি হন। কিন্তু সেই মুকেশ আম্বানি ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে চলে গেলেন সিঙ্গাপুরে, সেখানে এক নতুন অফিস খুললেন, এক নতুন কোম্পানি, এবং সেখানে ঐ টাকাটা ইনভেস্ট করলেন, যে কোনও সময়ে সিঙ্গাপুরে ব্যবসায়ে লাভের হার আমাদের চেয়ে কম, নিয়ম কানুনের কড়াকড়ি অনেক অনেক বেশি। কিন্তু মুকেশ বাবু ঐ সিঙ্গাপুরই বেছে নিলেন কেন? এই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে তো? দাঁড়ান, দাঁড়ান, উনি তো ওনার সাম্রাজ্যের অতি সামান্য এক অংশ সিঙ্গাপুরে ঢালছেন, আমার দেশের অনেক অনেক ধনী ব্যবসায়ী সর্বস্য নিয়েই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের প্রাথমিক হিসেবে ৪,৩০০ জন মিলিয়নেয়ার দেশ ছাড়ছেন, কিছু অনুমানে এই সংখ্যা ৮,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। এর মানে, প্রায় পাঁচজনের মধ্যে একজন সুপার রিচ ভারতীয় দেশ ছাড়তে চান। কেন? মোদিজী বললেন অচ্ছে দিন আয়েঙ্গে, বললেন দেশের পয়সা বিদেশ থেকে দেশে ফিরবে, সেসব তো হলই না বরং আইনীভাবেই ব্যবসায়ীরা দেহ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন? কেন? এই দেশত্যাগের পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে, ট্যাক্স নিয়ে অসন্তোষ হল প্রথম কথা। রেডিটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অনেকে বলছেন, হাই ইনকাম গ্রুপকে আয়ের উপর বেশি ট্যাক্স আর সারচার্জ দিতে হয়। এবং তার সঙ্গে যে কথা যোগ হচ্ছে তা হলো, ট্যাক্স এর থেকেও বেশি দিতে রাজি আছি কিন্তু এত ট্যাক্স দেওয়ার পরও পাবলিক সার্ভিস বা পরিকাঠামোর কোনো ব্যবস্থা নেই, ট্যাক্স দিলাম কিন্তু তার ভালো রিটার্ন পাওয়া যায় না। একজন বলেছেন, “৬-৭ লাখ ট্যাক্স দিয়েও কিছু পাওয়া যায় না, না পরিস্কার পানীয় জল না ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা তারচেয়ে এমন জায়গায় যাবো যেখানে এর মূল্য আছে। এবং সেখানেই উঠে আসছে জীবনযাত্রার মান এর কথা। দূষণ, আইনশৃঙ্খলার অভাব, আর অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো নিয়ে অজস্র অভিযোগ। চেন্নাইয়ের এক ব্যবসায়ী সমাজমাধ্যমে আমাদের দেশের সঙ্গে ইউরোপের তুলনা করে বলেছেন, ১) দূষণ, ২)ড্রাইভিংয়ের মান, আর ৩) প্রকৃতির সান্নিধ্যের অভাব মানে এক দূষণ মূক্ত সবুজ পরিবেশ পেতেই মানুষ ছুটছে বিদেশে, যারা পারছে তারা বেরিয়ে যাচ্ছে, আর ফিরছে না। মোদিজী বিদেশে গেলে মোদি মোদি বলে যে ইন্ডিয়ান ডায়াস্ফোরা চ্যাঁচাচ্ছে, তারাই এরা, যদি কিছু সুযোগ সুবিধে বেশি পাওয়া যায় তার ধান্ধায় এনারা যোগাযোগ রাখছেন, বেশি সুযোগ নিয়ে কিছু বিনিয়োগ করছেন বটে, কিন্তু ফিরে আসছেন না। আরেক বড় সমস্যা হল দুর্নীতির অভিযোগ আর ধারণা। সরকারি প্রকল্পে তো খুল্লমখুল্লা কাটমনি,আর ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। একজন বলেছেন, “১০০ কোটির রাস্তার প্রকল্পে রাজনীতিবিদ আর সরকারি কর্মকর্তারা ৫০ কোটি খেয়ে নেয়, বাকি টাকায় রাস্তা বানায়। তারপরে সেই রাস্তায় কিছু হলে যিনি সেই রাস্তায় কনট্রাক্ট পেয়েছিলেন তাকে জেলে ঢোকানো হয়, সেখানেও আবার টাকা খাইয়ে বের হতে হয়, এরকম ব্যবসা করার থেকে না করা ভালো। দুর্নীতির পরের বিষয় শিক্ষা। যাদের সন্তান আছে বা সন্তানের পরিকল্পনা আছে, তারা স্কুলে ভর্তির তীব্র প্রতিযোগিতা আর পশ্চিমের দেশগুলোর তুলনায় শিক্ষার মান নিয়ে চিন্তিত। তারপরে স্কুলে গায়ত্রী মন্ত্র, কলেজে জ্যোতিষ পড়ানো হচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে প্রশ্ন পত্র আর বিশ্ব মানের বিশ্ব বিদ্যালয় তো নেইই, কাজেই সন্তানের মুখ চেয়ে তাঁরা চলে যাচ্ছেন সেই দেশে যেখানে এ নিয়ে সমস্যা নেই। সেই দেশের তালিকা বিরাট। এবং নিশ্চই করে তাঁদের মাথায় থাকছে ভালো সুযোগ আর অভিজ্ঞতা। ক্যারিয়ারে উন্নতি, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও ধারণার সংস্পর্শ, তাছাড়া বিদেশে সামাজিক স্বাধীনতার সুযোগ খুঁজছেন অনেকে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতে নিরীহ পোস্ট দিয়ে জেল জরিমানার চেয়ে বিদেশে থাকা ভালো, অনেকেই সেটা মনে করছেন।
অনেকে আবার শাসনব্যবস্থা, পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, আর কচ্ছপ গতির আইনি ব্যবস্থার কারণে “বাসের অযোগ্য পরিবেশ” তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে, কোনও কোম্পানির সঙ্গে, সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আইনী জটিলতা খুলতে ৩/৪/৫ বছর লেগে যাওয়া তো কিছুই নয়, আর তার ফলে এক বিরাট হতাশা যাঁদের গ্রাস করছে তাঁরা ভাবছেন এর চেয়ে পালিয়ে বাঁচা যাক, যঃ পলায়তি স জীবতি। আর এসবে ধুঁয়ো দিতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে রাখছে, এই তো সেদিন ট্রাম্প সাহেবও ঘোষনা করেছেন, একটা ভাল রকম টাকা দিন, নাগরিকত্ব নিন, ব্যবসা করুন ট্যাক্স ও দিতে হবে না। বহু দেশ এরকম স্কিম এর ঘোষণা করেছেন কাজেই অনেক ধনী ভারতীয় বিভিন্ন দেশের “বিনিয়োগ করে দেশত্যাগ” প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসের অধিকার ও নাগরিকত্ব নিচ্ছেন। আর সেসব জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া। ইউরোপের দেশগুলো যেমন ইতালি, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, পর্তুগালও মিলিয়নেয়ারদের আকর্ষণ করছে। ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় স্পেন/পর্তুগাল কিছুটা কম উন্নত, কিন্তু নামের পাশে ইউরোপ আছে, তাই বা কম কী? আসলে এই দশ বছরে মোদিজীর সেই আচ্ছে দিন আসেনি, যে আচ্ছে দিনের কথা সাধারণ মানুষ ভেবেছিলেন, মধ্যবিত্তরা চেয়েছিলেন আর সমর্থন করেছিলেন ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা। আমরা ভেবেছিলাম, টাকা মেরে পালিয়ে যাওয়া শিল্পপতিদের গ্রেপ্তার করে ফেরানো হবে, তাঁরা এখন বসে লন্ডন প্যারিসের দামী রেস্তঁরাতে জন্মদিন পালন করছেন, আর যাঁরা কিছুটা হলেও সৎভাবে এদেশেই ব্যবসা করে কিছু টাকা কামিয়েছেন, তাঁরা চলে যাচ্ছেন বিদেশে, এদিকে মোদিজী নাকি বিশ্বগুরু, দেশ নাকি বিশ্বে এখন তিন নম্বরে আর ২০৪৭ এ নাকি সব সমস্যার সমাধান হোয়ে যাবে।







