ওয়েবডেস্ক- রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল (New Governor) রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (Rabindra Narayan Ravi) আজ শপথ গ্রহণ (Taking Oath) করবেন। কলকাতার লোক ভবনে ( Lok Bhavan) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল (Chief Justice of Calcutta High Court Sujoy Pal) । অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্য সচিব ,মন্ত্রিসভার সদস্যরা, রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল সন্ধ্যাতেই তিনি দিল্লি হয়ে কলকাতায় এসে পৌঁছান। সস্ত্রীক কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নতুন রাজ্যপাল। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্যের তরফে মন্ত্রী সুজিত বসু।
এদিকে নতুন রাজ্যপাল দায়িত্বভার গ্রহণের আগেই রাজ্য ছাড়লেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। দুদিন আলিপুরের রাজ্য অতিথিশালায় থাকার পর বুধবার দুপুরে তিনি রাজ্য ছাড়েন।
বিদায়ের আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বোস বলেন, লোক ভবনে তাঁর সময় শেষ হলেও বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গকে নিজের “দ্বিতীয় বাড়ি” বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতে বাংলা আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে।
আরও পড়ুন- SIR-এ বাদ পড়া নামের আপিল শুনবেন কারা? ১৫০ বিচারপতির তালিকা তৈরি করল হাইকোর্ট
এদিকে ভোটের আবহে এবং এসআইআর সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকার প্রেক্ষিতে নতুন রাজ্যপালের নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাতের আবহে এই নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়ন ও সামনে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, নতুন রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপির ঘনিষ্ঠ।
*আমলাতান্ত্রিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর রবীন্দ্র নারায়ণ রবি ২০১৯ সালের আগস্টে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলান। পরে ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তামিলনাড়ুতে তাঁর রাজ্যপালত্বের সময় রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত একাধিকবার প্রকাশ্যে আসে। রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক বিল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের সরকার অভিযোগ তোলে, রাজ্যপাল নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিলগুলি আটকে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। ২০২৩ সালে রাজ্যপালের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করে তামিলনাড়ু সরকার।







