ওয়েব ডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক উত্তাপ। বাম-আইএসএফ (ISF) জোটের সমর্থনে আয়োজিত সভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে উঠে এলেন ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী (Nawsad Siddique)। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও বর্ষীয়ান বাম নেতা কান্তি গাঙ্গুলী-সহ জোটের একাধিক নেতৃত্ব।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একদিকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করলেও, অন্যদিকে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দেন নওশাদ। তাঁর মন্তব্য, “আপনার বয়স হয়েছে, আপনি অনেক কাজ করেছেন। এবার বিশ্রাম নেওয়ার সময় এসেছে। আপনি সন্ন্যাস নিয়ে বৃন্দাবনে ঘুরতে যান।” নওশাদ আরও বলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই সেই সফরের টিকিট কেটে দিতে প্রস্তুত। এই মন্তব্য ঘিরে সভায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, কেউ হাততালি দেন, আবার কেউ বিস্মিত হন।
আরও খবর : ভোট পরবর্তী হিংসা আলিপুরদুয়ারে, বিজেপির পোলিং এজেন্টকে মারধর, হুমকি
এদিনের সভা থেকে বাম (CPIM)-আইএসএফ (ISF) জোটের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়। নওশাদ সিদ্দিকী দাবি করেন, যদি এই জোট ক্ষমতায় আসে, তাহলে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “বেকারত্ব আজ রাজ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমরা ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারে একজন করে চাকরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।” এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। নওশাদ জানান, কলকাতার বড় বড় হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা জেলায় নিয়ে আসা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে আর দূরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে না হয়। এতে করে সময় ও অর্থ, দু’টোই সাশ্রয় হবে বলে দাবি তাঁর।
সব মিলিয়ে জয়নগরের এই জনসভা রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমোকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য, অন্যদিকে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি। এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাম-আইএসএফ জোট তাদের নির্বাচনী বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে।
দেখুন অন্য খবর :







