ওয়েব ডেস্ক: ৪ মে-র পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমাকে এ রাজ্যে আসতেই হচ্ছে’। সোমবার ব্যারাকপুরে শেষবেলার প্রচারে বড় দাবি নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)৷ ব্যারাকপুরে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Campaigning in Barrackpore) জানালেন, বাংলার গরমে টানা রোড-শো করেও ক্লান্তি অনুভব করেননি তিনি৷ তিনি বলেন, ‘সকাল সকাল এত মানুষ আশীর্বাদ দিতে এসেছেন। হেলিপ্যাড থেকে সভাস্থলে আসার পথে দু’পাশে মানুষের যে উৎসাহ দেখলাম, তা অভিভূত করেছে। এদিনের সভা থেকে পরিবর্তনের ডাক দিলেন মোদি।
আগামী ২৯ তারিখ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষদফার ভোট। ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে সোমবার ছাব্বিশের বঙ্গভোটে প্রচার প্রায় শেষ। আর এই শেষবেলায় বিজেপির প্রচারের ঝড় তুললেন মোদি। সিপাই বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় দাঁড়িয়ে মঙ্গল পাণ্ডে আবেগে শান দিলেন। দ্বিতীয় দফা ভোটে দলীয় কর্মী, সমর্থকদের মনোবল আরও চাঙ্গা করলে মোদি বললেন, ‘‘বাংলার মেজাজ বলছে, এবার পদ্ম ফুটছেই।অঙ্গ, কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গে পদ্ম ফোটার পালা। নিশ্চিন্তে থাকুন, ৪ মে-র পর বিজেপি সরকারের শপথে আমি আসবই। কথা দিয়ে গেলাম।” তিনি বলেন, “মা কালীর ভক্তদের মাঝে গিয়ে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা ভোলার নয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে ১১ দিন বিভিন্ন পুজো-আচার করেছি। দক্ষিণ ভারতের একাধিক মন্দিরেও গিয়েছি। এই সব কিছুর নেপথ্যে রয়েছে বাংলার প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা। আমার আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্রও বাংলা। এখানে ঈশ্বররূপী জনতার ভালোবাসা পেয়েছি।’
আরও পড়ুন: ‘এত বছর ধরে কী করেছে তৃণমূল, সেই রিপোর্ট কার্ডও দেয়নি’, অভিযোগ মোদি’র
প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও ক্লান্তি অনুভব করছেন না বলেই জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘এই দৌড়ঝাঁপে সাধারণত ক্লান্তি আসে। ৩০-৪০ বছর আগেও আসত। কিন্তু এবার একেবারেই আলাদা অনুভূতি।কেন জানেন? এখানকার মানুষের এত স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া। সবার মনোভাব বলে দিচ্ছে, এবার বাংলায় পরিবর্তন হচ্ছেই, বিজেপি সরকার তৈরি হচ্ছেই। এত রোড শো করছি, আমার কাছে এটা তীর্থযাত্রার মতো পবিত্র।
তিনি আরও বলেছেন, “প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির (BJP) পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে।”। মোদি আরও আক্রমণ করে বলেছেন, ‘‘বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। কী করা হবে, কোথায় নিয়ে যাবে, তা-ও বলে না তৃণমূল। কারণ ওদের কোনও ইচ্ছা নেই, দূরদর্শিতা নেই।”







