কলকাতা: হকারদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে বিতর্কে জড়ালেন কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality Corporation) ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের পদত্যাগী কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh)। তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও অন্তত সাত জনের বিরুদ্ধে আনন্দপুর (Anandapur) থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন একদল ব্যবসায়ী। অভিযোগ, বাজারে দোকান বণ্টন ও বিক্রির নামে গত কয়েক বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আনন্দপুর এলাকার একটি বাজারের হকার্স কমিটির প্রায় ১৩০ জন ব্যবসায়ী যৌথভাবে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাজারে নতুন টিন ও শাটারের দোকান তৈরি করা হয়। সেই দোকান কারা পাবেন এবং কত বড় জায়গা পাবেন, তা নির্ধারণ করতেন অভিযুক্তরা।
আরও পড়ুন: অস্বস্তিকর গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ, বৃষ্টি কমতেই বাড়ল তাপমাত্রা!
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানের আয়তন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ‘রেট চার্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগ আরও গুরুতর— বাজারের একাধিক দোকান সরাসরি বিক্রিও করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
হকারদের দাবি, এক একটি দোকান প্রায় ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু দোকান বিক্রিই নয়, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি তাঁরা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর তাঁরা একযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের দাবি, যাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে, সেই টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থাও করা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার সময়কাল কয়েক বছর আগের হওয়ায় পুরনো আইনি ধারায় তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা বাজার নির্মাণ, দোকান বণ্টন এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সুশান্ত ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একাধিক ব্যবসায়ীর বয়ানও রেকর্ড করতে পারে পুলিশ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুর প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একের পর এক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। সেই আবহে সুশান্ত ঘোষকে ঘিরে এই নতুন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।







