ওয়েব ডেস্ক: ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট (WB Election 2026 Phase 2), আজ সোমবার প্রচারের শেষ দিন। আজ দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi), মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত শাহ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীর। শেষদিন ভোট প্রচারে ভাটপাড়ায় মোদির জনসভা। ভাটপাড়ায় মঞ্চে এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে, বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হল। মঞ্চে বক্তৃতা করছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘একটাই ফুল, পদ্মফুল।’’ এদিনের সভা থেকে পরিবর্তনের ডাক দিলেন মোদি।
বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট।আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পেরর পরিপূরক।
মোদির কথায়, "যে মা-মাটি-মানুষ স্লোগান তুলে তৃণমূল সরকার গঠন করেছিল, সেটা ভুলে গিয়েছে। ওদের ১৫ বছর সময় দিয়েছেন। মা, কৃষক, যুবদের জন্য কিচ্ছু করেনি। ওরা একটাই ফর্মুলা মেনেছে গালাগালি দাও, মিথ্যে বলো, জোরে বলো, বারবার বলো। মোদিকে গালাগালি দিয়েছে। সেনা, সংবিধান সংস্থা সবাইকে গালাগালি দিয়েছে। এত বড় নির্বাচনে ১৫ বারের কাজের রিপোর্ট কার্ড একবারও বলেনি। যারা নিজের কাজের রিপোর্ট বলতে পারে না এদের কি আর সুযোগ দেওয়া উচিত? তৃণমূলের কাছে বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোড ম্যাপও নেই। এদের কাছে না কোনও লক্ষ্য আছে, না ইচ্ছে আছে।"

বাংলার রোড শো, সভায় আমাকে আপন করে নেওয়ার বার্তা পেয়েছি। ছবি পেয়েছি। যত রাত হোক, রাতে গিয়ে সেই ছবি দেখি। ছবির পিছনে ছোট শিল্পীদের ভাব বোঝার চেষ্টা করি। চিঠি পড়ি, কোথাও কষ্ট দেখতে পাই, কোথাও আশা। আমি জবাব দিই। বাংলার জনতা জনার্দনের এই অসীম প্রেম আমার সৌভাগ্য।রোড শো, সভা থেকে ফিরে গিয়ে কানে বাজে আপনাদের কথা। এটাই আমার জীবনের পুঁজি। ওঁরা আমায় দেখে কেঁদে ফেললে ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
গতকাল আরামবাগে র্যালিতে দেখলাম, ছোটো বোন রেলিং ভেঙে এগিয়ে আসতে চাইছিলেন। নিরাপত্তরক্ষীদের সঙ্গে বচসা হচ্ছিল। কিছু না খেয়ে বাড়িতে সন্তানদের বলে এসেছিলেন, মোদFর সঙ্গে দেখা করেই যাব। আমি ওঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, দেখা করতে পারিনি বলে। আমার বিশ্বাস, ওই বোনের সঙ্গে কখনও না কখনও দেখা হয়েই যাবে। বিকশিত ভারতের জন্য অঙ্গ, বঙ্গ,কলিঙ্গের উন্নতি জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয়ের জন্য পূর্বোদয় দরকার। ২০১৩ থেকে তাই আমি বলে আসছি, যখন পূর্ব ভারত এগিয়ে যাবে, তখনই দেশ এগিয়ে যাবে। অঙ্গ মানে বিহারে পদ্ম ফুটেছে, কলিঙ্গ, ওড়িশায় পদ্ম ফুটেছে, এবার বঙ্গ মানে বাংলার পালা। আমি যা দেখছি, এবার বাংলাতেও পদ্ম ফোটা নিশ্চিত।'
রাজনীতি, বিজেপিতে আসার পরে, পার্টি যা বলে, তা-ই করি। নির্বাচনের দায়িত্ব সামলানোও তার মধ্যেই পড়ে। দিন-রাত-ঋতু কিছু দেখি না। আপনাদের মাঝে থাকলে শান্তি পাই, সুখ পাই। আপনারাই আমার পরিবার।

সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্য়াড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মের পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।
লাগাতার ভোট প্রচার প্রসঙ্গে PM মোদী বলেন, "এত নির্বাচনী প্রচার করেছি। শরীর ক্লান্ত হতো। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় এত গরমে এত ব়্যালি, রোড শো'র পরও একটুও ক্লান্ত হচ্ছি না। এত রোড শো আমার জন্য তীর্থযাত্রার মতো।"

চারিদিকে একটাই স্লোগান, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। আজ এটাই ভোটের শেষ সভা আমার। বাংলার মানুষের মধ্যে যে মেজাজ দেখলাম, এই বিশ্বাস নিয়ে ফিরছি, ৪ মে-র বিজেপি-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমায় আসতেই হবে। তাই আমার উৎসাহ আরও বেড়ে যাচ্ছে।'
১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।
মোদি ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে ভাষণ শুরু করলেন। যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে এনেছিলেন, তাঁদের থেকে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রার্থীদের ডেকে নেন পাশে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে মঙ্গল পাণ্ডের ছবি তুলে দিলেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী ও অর্জুন সিং। মঞ্চে বক্তৃতা করছেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘একটাই ফুল, পদ্মফুল।’’







