ওয়েব ডেস্ক: প্রবল গরমে জল সঙ্কটে জর্জরিত গোটা উপমহাদেশ। উত্তর ভারতের (North India) একাধিক নদনদী শুকোতে শুরু করেছে, জলের অভাবে নাজেহাল পরিস্থিতি। একই চিত্র প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও (Pakistan)। তার উপর সিন্ধু নদীর জল নিয়ে টানাপোড়েনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইসলামাবাদের (Islamabad) জন্য।
পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” সেই প্রেক্ষিতে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি (New Delhi)। এর জেরে পাকিস্তানে কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড়সড় প্রভাব পড়েছে, কারণ এই দুই ক্ষেত্রই সিন্ধুর জলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় যাত্রীবাহী বাসে জঙ্গি হামলা! মৃত ১৪
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে ইসলামাবাদ। বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্রসংঘের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি জল সঙ্কট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেছেন, যেখানে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “চুক্তির পবিত্রতার কথা বলার আগে মানবজীবনের পবিত্রতা রক্ষা জরুরি।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না করলে সিন্ধু চুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনাই সম্ভব নয়।
ভারতের মতে, দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক চুক্তিকে সম্মান করে, কিন্তু সেই দায়িত্ব দুই পক্ষেরই হওয়া উচিত। পাকিস্তানকে আগে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে, এই অবস্থানেই অনড় দিল্লি। জল সঙ্কট ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে পাকিস্তান এখন চাপে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহবাজ সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।







