কলকাতা: তৃণমূল (TMC) বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে তদন্তে আরও গতি আনল সিআইডি (CID)। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ভবানীভবনে (Bhawani Bhawan) তলব করার মধ্যেই গঠন করা হল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। সূত্রের খবর, পাঁচ সদস্যের এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন এক ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। দলে রয়েছেন এক ডিএসপি, দুই ইনস্পেক্টর-সহ একাধিক তদন্তকারী।
সোমবারই ভবানীভবনে হাজিরার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও সোনারপুরে হেনস্তার ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি আদৌ হাজিরা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই সিট গঠনের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
সিআইডি সূত্রে খবর, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করেই পৃথক তদন্তকারী দল তৈরি করা হয়েছে। লক্ষ্য, দ্রুত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা। ইতিমধ্যেই তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং কুণাল ঘোষের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। উপস্থিত বিধায়কেরা হাত তুলে সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন। তবে বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সে সময় জমা পড়েনি।
এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় শপথগ্রহণের সময় বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। পরে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডেকে উপস্থিত বিধায়কদের সই নেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই সইয়ের ভিত্তিতেই ৭০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল।
বিধানসভার সচিবালয় নথি পরীক্ষা করে দেখতে পায়, কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। দুই পৃথক নথিতে সই না মেলায় জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর বিধানসভার সচিব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তভার নেয় সিআইডি।
তদন্তকারীদের দাবি, কারা সই সংগ্রহ করেছিলেন, কোন পরিস্থিতিতে নথি তৈরি হয়েছিল এবং আদৌ কোনও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজন বিধায়ক ও দলের নেতাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। তাঁর হাজিরার আগেই সিট গঠন হওয়ায় স্পষ্ট, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সিআইডি।







