কলকাতা: ভবানীপুরে কথা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপির প্রচার মাইকের জেরে শনিবার সভা করতে না পারার পর রবিবার পদযাত্রার মাধ্যমে জোরালোভাবে প্রচারে নামলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। রবিবার বিকেল প্রায় ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে শুরু হয় তাঁর পদযাত্রা (Road Show)। কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ধরে এগোয় এই মিছিল। শুরুর সারিতেই ছিলেন তিনি নিজে। তাঁকে একঝলক দেখার জন্য রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমায় বহু মানুষ। জনতার উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবারের প্রচারে ভবানীপুরে কিছুটা ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন মমতা। বহুতল আবাসনে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ যেমন করছেন, তেমনই পদযাত্রার সময়েও সেই ছবি ধরা পড়ে। সাধারণত দ্রুত গতিতে হাঁটলেও এদিন তুলনামূলক ধীর পায়ে এগোতে দেখা যায় তাঁকে, যাতে আরও বেশি মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়। পদযাত্রা চলাকালীন এক আবেগঘন ঘটনাও সামনে আসে। এক মহিলা মমতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বাধা দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দেন তাঁকে ছেড়ে দিতে। এরপর ওই মহিলা তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন।
আরও পড়ুন: সায়ন্তিকার প্রচারে দেব, রাজের হয়ে ভোট চাইলেন শুভশ্রী! শেষ রবিবারে প্রচারে ঝড় তৃণমূলের
প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই পদযাত্রা শেষ হয় হাজরা ফায়ার ব্রিগেডের সামনে। পদযাত্রার ফাঁকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন তিনি—কখনও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, আবার কখনও থেমে কথা বলেন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। এদিকে ‘ঘরের মেয়ে’কে দেখতে এদিন ভবানীপুরে আবালবৃদ্ধবনিতার ঢল নামে। বাড়ির বারান্দা, ছাদ, রাস্তাঘাট—সব জায়গাতেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
উল্লেখ্য, শনিবার চক্রবেড়িয়ায় স্বামী নারায়ণ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মমতার একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, সভাস্থলের সামনেই বিজেপির উচ্চস্বরে মাইক বাজানোর কারণে সেই সভা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, সমস্ত সরকারি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। সেই সঙ্গেই ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেখুন আরও খবর:







