কলকাতা: হালিশহরের (Halisahar) ঘটনায় এ বার সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পনা। ঘটনাটিকে তিনি ‘স্টেট স্পনসর্ড’ বলেও দাবি করেন।
অভিষেকের অভিযোগ, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কার্যকর করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।’’ যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। বিজেপির তরফেও এই অভিযোগের জবাব এখনও পর্যন্ত আলাদা করে সামনে আসেনি।
রবিবার হালিশহরে এক মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা এবং জুতো ছোড়া হয়। পাশাপাশি ওঠে স্লোগানও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
আরও খবর : দুই ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা, ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া
সোমবার ওই মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্জুন সিং এবং পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা। অন্য দিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী বিধায়কেরা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের তিন বিধায়ককেও সেখানে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।
রাজ্যসভার অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। দলের সাংসদ নাদিমুল হক এ নিয়ে নোটিস দেন। তৃণমূলের অভিযোগ, তিনি বক্তব্য রাখার সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদে তৃণমূল-সহ বিরোধী সাংসদেরা ওয়াকআউট করেন বলে দাবি।
হালিশহরের ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র। এক দিকে তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত হামলা’র অভিযোগ, অন্য দিকে ঘটনার রাজনৈতিক দায় নিয়ে পাল্টা চাপ তৈরির চেষ্টা, সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের আবহ।







