ওয়েব ডেস্ক: লোকসভায় পাশ হয়নি ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করে “মহিলাদের অধিকারের ভ্রূণ হত্যা” করেছে। বক্তৃতায় বিশেষভাবে কংগ্রেসকে নিশানা করার পাশাপাশি তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘জাতিকে বিভ্রান্ত করার’ অভিযোগ তোলেন। মমতা দাবি করেন, মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৃণমূল সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর কথায়, লোকসভায় দলের নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় প্রায় ৪৬ শতাংশই মহিলা, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন: প্রচারে অভিনবত্ব, কৃষকদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন পালন গাইঘাটার বিজেপি প্রার্থীর
তৃণমূলের আপত্তি মূলত বিলের সঙ্গে যুক্ত ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিয়ে বলেই স্পষ্ট করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের সংরক্ষণকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে কেন্দ্র আসলে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে। রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানো এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে বেশি প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের উপর আঘাত।
It is deeply unfortunate that the Prime Minister chose to mislead the nation rather than address it honestly.
Let me put this on record. Trinamool Congress has always championed higher political representation for women. We have the highest proportion of female elected…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) April 19, 2026
এছাড়াও, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলাদের সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করে হঠাৎ করে এই উদ্যোগ কেন নেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে একাধিক রাজ্যে নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি সামনে আনা নিয়েও তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। মমতার বক্তব্য, সংসদের ভেতরে জবাবদিহির মুখোমুখি না হয়ে বাইরে থেকে ভাষণ দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতি নয়। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ‘কাপুরুষ’, ‘ভণ্ড’ এবং ‘দ্বিমুখী’ বলেও আক্রমণ করেন।
দেখুন আরও খবর:







