ওয়েব ডেস্ক: শেষ দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আগে প্রচারের পালে হাওয়া তুলতে রবিবারকেই বেছে নিয়েছে সব শিবির। সেই আবহেই আজ ঠাকুরনগরের মেগা-সভার পর হুগলির হরিপালে ঝোড়ো প্রচার সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সেখান থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ালেন। হরিপালের জনসভা থেকে মোদি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন আর নবান্ন থেকে পরিচালিত হয় না, বরং তৃণমূলের গুন্ডা ও মস্তানদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে। এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিন মোদির ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পায় তথাকথিত আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলা এবং এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজ্য সরকার বারবার বাধা দিয়েছে এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও হয়েছে। তাঁর কথায়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই বিষয়টিকে গণতন্ত্রের উপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যাতে তদন্তে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়।
আরও পড়ুন: ‘নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, সব অধিকার দেওয়া হবে, মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে মোদির ‘গ্যারান্টি’
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা ও গরু পাচার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মোদি। তিনি বলেন, “মানুষকে বিচার পেতে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। রাজ্য সরকার নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ।” তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আদালতকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের উপর আস্থা না থাকায় আদালতকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই সরকার নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
পাশাপাশি, প্রথম দফার ভোটে বিপুল ভোটদানের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন মোদি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে ভোটারদের দমন করা হলেও এবারের নির্বাচনে মানুষ সেই ভয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ইভিএমে জবাব দিয়েছেন।”
দেখুন আরও খবর:







