ওয়েব ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে এক মাইলফলকের নাম ঋত্বিক ঘটক (Ritwik Ghatak)। ইতিমধ্যে উদযাপন হচ্ছে তাঁর জন্মশতবর্ষ। এই আবহে আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক সুমন মৈত্রের প্রশংসিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘অ২ (A2)’। পরিচয়, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, আত্মসংগ্রাম এবং মানবিক সহনশীলতার এক গভীর অন্বেষণ হয়ে এই চলচ্চিত্র আজকের সময়ের সঙ্গে নতুন করে সংলাপ তৈরি করে।

কেরল, শ্রীলঙ্কা, জাপানসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ১১টি পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করে ‘অ২’ ইতিমধ্যেই সমকালীন স্বাধীন বাংলা সিনেমার অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) বাংলা প্যানোরামা বিভাগে নির্বাচিত হয়ে ছবিটি সমালোচক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র ভাবনা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবতার গভীর শিকড় থেকে অনুপ্রাণিত ‘অ২’ মূলত এক আবেগময় যাত্রা। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে অপু, এক তরুণ লেখক, যে নিজের জীবনসংগ্রামকে সাহিত্যে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখে; আর দুর্গা, যে আজকের সময়ের এক সাহসী ও সংবেদনশীল নারীর প্রতীক। তাদের গল্পে ধরা পড়ে আশা, বেদনা, প্রতিবাদ এবং আত্মমুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
আরও পড়ুন: সাদা-কালো ছবিতে মনের কথা তুলে ধরলেন দেব
এই ছবির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য এর সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্মাণ প্রক্রিয়া। সীমিত পরিসরে, কিন্তু অগাধ নিষ্ঠা, বিশ্বাস ও সৃজনশীলতার জোরে নির্মিত ‘অ২’ প্রমাণ করে যে শক্তিশালী গল্প বলার জন্য বড় পরিকাঠামো নয়, প্রয়োজন শিল্পের প্রতি অটল আস্থা।

ছবিটি সম্পর্কে পরিচালক সুমন মৈত্র বলেন, “অ২ আসলে ঋত্বিক ঘটকের কলকাতা এবং আজকের সৃজনশীল প্রজন্মের অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে এক সময়াতীত সংলাপ।”

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রৌনক ভট্টাচার্য, অঙ্কিতা ব্রহ্ম, মেহুলি সরকার, শ্রেয়সী রায় বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, অরুণ চট্টোপাধ্যায়, মৌমিতা পাল, সুমি সেন, সৌভাগ্য মুখার্জি এবং জয়িতা বিশ্বাস। প্রত্যেকেই তাঁদের অভিনয়ের মাধ্যমে ছবির মানবিক আবেগকে আরও গভীরতা দিয়েছেন।

ছবির সংগীত ও আবহসংগীত পরিচালনা করেছেন চন্দ্রিমা, যার মর্মস্পর্শী সুর ও শব্দনির্মাণ ছবির আবেগকে আরও তীব্র ও স্মরণীয় করে তোলে।

আগামী ১২ জুন মুক্তি পাচ্ছে ‘অ২ (A2)’। এটি শুধু ঋত্বিক ঘটকের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়; বরং এমন এক চলচ্চিত্র, যা মনে করিয়ে দেয় সিনেমা এখনও মানুষের অনুভূতি, প্রতিবাদ, স্মৃতি এবং আশার সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষাগুলোর একটি।
দেখুন আরও খবর:







