ওয়েব ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমাল আমেরিকা। কিছু ক্ষেত্র পুরোপুরি শুল্কমুক্তও করে দিল। আমেরিকান জিনিস এবার আরও সস্তায় পাবেন ভারতীয়রা। অন্তর্বর্তী ভারত-আমেরিকা ট্রেড ডিলের (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্কে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে দেশের কৃষিক্ষেত্রকে বিক্রি করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার (Narendra Modi Government)। এই অভিযোগ তুলেই সরব হয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু শনিবার সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তিতেও ‘আত্মনির্ভর ভারত’কেই প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, সংবেদনশীল কৃষিজাত ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থে কোনও কোপ পড়বে না। যেমন, ভুট্টা, চাল, গম, সয়াবিন, পোলট্রিজাত পণ্য, দুধ, চিজ়, তামাক, ইথানল (জ্বালানি)— এ গুলির ক্ষেত্রে কোনও শুল্কছাড় দেয়নি ভারত। এই ক্ষেত্রগুলিতে শুল্ক যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বাদাম, তাজা ফল, সয়াবিন তেল, পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত শুকনো খাদ্যশস্য বা ডিডিজিএস, পশুখাদ্যের লাল জোয়ার এবং ‘অতিরিক্ত পণ্য’-এর জন্য আমেরিকাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে ভারতের বাজারে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আমেরিকাও একাধিক ভারতীয় পণ্যের উপর শূন্য শুল্ক আরোপ করছে। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। এর ফলে দেশের শিল্পক্ষেত্র উপকৃত হবে। ভারতীয় পণ্যের জন্যও বড় বাজার খুলে যাবে। এই চুক্তির ফলে ভারতে আমদানি হওয়া কিছু মার্কিন পণ্য সস্তা হতে পারে। কৃষি ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে ড্রায়েড ডিস্টিলার্স গ্রেন (DDGS), লাল জোয়ার, ট্রি-নাটস যেমন আখরোট ও পেস্তা, সয়াবিন তেল, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, ওয়াইন ও স্পিরিটসের উপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি খুচরো বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আখরোট ও পেস্তার মতো দামি, ইমপোর্টেড বাদামের দাম কমতে পারে। শক্তি, বিমান ও বিমানযন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু এবং কোকিং কয়লার মতো পণ্যের আমদানিতে শুল্ক কমার ফলে খরচ কমতে পারে।
আরও পড়ুন: ফের ডিগবাজি খেল পিবিসি, ভারতের বিরুদ্ধে খেলার ইঙ্গিত পাকিস্তানের
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, ভারত আমেরিকার বাজারে তার বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্যের উপর শূন্য শুল্ক আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- চা, কফি, কলা, আম ইত্যাদি। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যে সব পণ্য উৎপাদনে আমরা আত্মনির্ভর, সেগুলিকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।” তাঁর দাবি, প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর হওয়া এই চুক্তি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার খুলে দেবে। তিনি আরও জানান, ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছে আমেরিকার। পাশাপাশি, রুশ তেল কেনার জন্য ভারতের পণ্যে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পীযূষ।
মার্কিন শুল্ক কমানোর পরিবর্তে আমেরিকার বেশ কিছু শর্ত মানতে হয়েছে ভারতকে। আমেরিকার কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করতে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি। আমেরিকার সকল বাণিজ্যিক পণ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের উপর থেকে ভারত হয় শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে, নয়তো তার পরিমাণ কমাবে। ভারতের বাজারে মার্কিন চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবসায় বেশ কিছু বাধা ছিল। সেগুলির মোকাবিলা করতে রাজি হয়েছে দিল্লি। মার্কিন তথ্য ও যোগাযোগ পণ্যের (আইসিটি) বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ আমদানি লাইসেন্সিং পদ্ধতির জন্য এত দিন যে দেরি হত, ভারত তা-ও সরিয়ে নেবে।







