Placeholder canvas

Placeholder canvas
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | নির্বাচনী জোট নয়, এক আদর্শগত বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠলে...
Fourth Pillar

Fourth Pillar | নির্বাচনী জোট নয়, এক আদর্শগত বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠলে বিজেপি ২০০-র তলায় চলে যাবে

আজ সেই প্ল্যাটফর্মকে আরও বড় করতে হবে, সবাই কে আনতে হবে সেই আঙিনাতে

Follow Us :

সংসদীয় রাজনীতিই তো করবেন, অস্ত্র হাতে চে গ্যেভারার ছবি সামনে রেখেও আসলে তো ভোটের রাজনীতি, আঞ্চলিক দলের নামে স্থানীয় আবেগকে কাজে লাগাবেন, ভালো কথা, কিন্তু থাকতে তো হবে এক অখণ্ড দেশে? নামতেই হবে সাধারণ নির্বাচনে দেশের আগামী দিনগুলোর দিশা নির্ধারণের জন্য। কাজেই সংসদীয় গণতন্ত্রকে বাঁচানোর চেষ্টাটাই প্রথম আর প্রধান কাজ হওয়া উচিত। বিরোধীরা কেবল সংবিধান বাঁচাব, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বাঁচাব এইটুকু এক্কেবারে বেসিক প্রিন্সিপাল, সাধারণ আদর্শকে সামনে নিয়ে মাঠে নামেন, তাহলে বিজেপিকে হারানো সম্ভব। কেবল হারানো নয়, এই গণতন্ত্রের ভিটেমাটি থেকে দূর করে দেওয়াও সম্ভব। দেশ স্বাধীন হল ৪৭-এ, প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই কংগ্রেসের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাভাবনার মানুষ, স্পেনের স্বৈরাচারী ফ্রাঙ্কোর বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছিল পপুলার ফ্রন্ট, ছিল স্প্যানিশ কমিউনিস্ট পার্টি, অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দল। তৈরি হয়েছিল ইন্টারন্যাশন্যাল ব্রিগেড, যোগ দিয়েছিলেন লোরকা, জর্জ অরওয়েল, সমর্থন জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সেই রণক্ষেত্রে পৌঁছেছিলেন মুলকরাজ আনন্দ, ভি কে কৃষ্ণমেনন, জওহরলাল নেহরু। ইন্দিরা গান্ধী তখন লন্ডনে, ফিরোজ গান্ধীও, ওঁরা ইন্টারন্যাশন্যাল ব্রিগেডকে সাহায্য করার কাজ করছিলেন, সেদিন স্পেনের পপুলার ফ্রন্টের সমর্থনে ছিল সোভিয়েত রাশিয়া। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে নেহরু ডাক দিলেন সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সমাজ তৈরির, রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চালু করলেন, রাশিয়ার সাহায্যে ইস্পাত কারখানা তৈরি হল। দেশের সংবিধানে তখনও সমাজতান্ত্রিক শব্দটা নেই, কিন্তু সংবিধান জুড়েই সেই সমাজতন্ত্র, কল্যাণকামী রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় শিল্প গড়ে ওঠা সবই ছিল। এবং নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ কোনওদিন কোনও প্রশ্নও তোলেননি, তাঁর আরএসএস বিরোধিতা ছিল নিখাদ, বহু লেখায় তিনি আরএসএস এবং তাদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির স্বরূপের কথা জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁদের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সারা জীবন।

এসব পড়লে, শুনলে মনেই হবে যে তাহলে নিশ্চয়ই দেশের কমিউনিস্টরা, সোশ্যালিস্টরা জওহরলাল নেহরুকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তব ছিল এক্কেবারে উল্টো। যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আজকের পরিবর্তিত ভারতীয় রাজনীতির শেকড়, দেশের কমিউনিস্টরা, বামপন্থীরা, সোশ্যালিস্টরা, লোহিয়াইটরা প্রতিদিন নিয়ম করে নেহরুর বিরোধিতা করেছেন, কমিউনিস্ট পার্টি সেদিনের কংগ্রেসকে চরম দক্ষিণপন্থী দল বলেই মনে করত, টাটা বিড়লা ইত্যাদি একচেটিয়া পুঁজিপতি, দেশের সামন্ততান্ত্রিক অবশেষের প্রতিনিধি হিসেবেই চিহ্নিত করেছিল। দেশের রাজনীতির মধ্যে, এমনকী কংগ্রেস দলের মধ্যেও যে দক্ষিণপন্থা কাজ করছিল, তাকে বামপন্থীরা, কমিউনিস্টরা, সোশ্যালিস্টরা যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি, একধারে দেশের সঙ্গে, নেহরুর সঙ্গে সোভিয়েতের দারুণ সম্পর্ক, আবার সেই সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বে, কমিনটার্ন রাজনীতির নির্দেশে চলছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। অথচ সেই দলই দেশে নেহরুকে, কংগ্রেসকে দক্ষিণপন্থী বলে চলেছে, এই স্ববিরোধিতা বজায় ছিল বছরের পর বছর। ১৯৬৪-তে কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হল, শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গের নেতৃত্বে চলল সিপিআই, ই এম এস নাম্বুদ্রিপাদ, প্রমোদ দাশগুপ্ত ইত্যাদির নেতৃত্বে তৈরি হল নতুন দল সিপিআইএম, নতুন দল সিপিআইএম শুরু থেকেই সিপিআইকে দক্ষিণপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি বলত, যদিও ভাগ হওয়ার পরেই কেরালা বা এই বাংলায়, সেই দক্ষিণপন্থী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেই তারা সরকার তৈরি করেছে, একবার নয়, বহুবার। এরপর জরুরি অবস্থা, কংগ্রেস দলের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের বিরুদ্ধে, বহু লোকজন ছিলেন, বাইরে ছিল জনসঙ্ঘ, স্বতন্ত্র দল, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরিই ছিল সিপিআইএম, সোশ্যালিস্ট পার্টি ইত্যাদিরা।

অন্যধারে দেশের প্রথম আঞ্চলিক দলগুলোও গড়ে উঠেছিল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই, ডিএমকে বা তেলুগু দেশম বা কালি দলের কংগ্রেস বিরোধিতাই তো ছিল পুঁজি। এবং এই দুই শক্তিশালী শিবিরের বিরোধিতাই জন্ম দিয়েছিল এক নতুন রাজনীতির। দেশের রাজনীতির এক আমূল বদল হল ১৯৭৭-এ, একধারে কংগ্রেস, অন্যধারে বাম, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা নেতারা, লোকদল, জনসঙ্ঘ এবং ডিএমকে, কালি দল। ইন্দিরা এবং কংগ্রেসের বিরাট পরাজয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সিপিআই ১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে আবার বিরোধিতায় নামল। শুরু হল ভারতের রাজনীতির আর এক অধ্যায়, যেখানে এই বিরোধিতার মধ্যে দিয়েই চরম দক্ষিণপন্থী দল জনসঙ্ঘ জায়গা করে নিতে থাকল, বিজেপি তৈরি হল, রামমন্দির মুদ্দা, হয়ে উঠছে রাজনীতির সেন্টার স্টেজ ইস্যু। তখনও, তখনও ভি পি সিংয়ের সরকার, সমর্থনে বিজেপি এবং বাম, কারণ তারা প্রত্যেকেই কংগ্রেস বিরোধী। দেশের সংসদে ২ থেকে বেড়ে বিজেপি যখন অটল বিহারী সরকার তৈরি করল, তখন থেকে বামেদের টনক নড়ল, তারা এবার বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে সমর্থন করা শুরু করল, কিন্তু ততদিনে আরএসএস–বিজেপির রাজনীতি উঠে এসেছে মঞ্চের এক্কেবারে সামনে, সবটুকু আলো শুষে নিয়ে এক নতুন দানব উঠে আসছে। এবং শেষমেশ নরেন্দ্র মোদির সরকার। আমাদের দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে, শুরু থেকেই ছিল হিন্দু মহাসভা, জনসঙ্ঘ, স্বতন্ত্র দল, তারাই ছিল প্রকৃত অর্থে চরম দক্ষিণপন্থী, অন্যদিকে ছিল সংসদীয় রাজনীতি বর্জন করা চরম বাম, নকশাল দল আর গোষ্ঠী, তারপর সিপিএম, সিপিআই, সোশ্যালিস্ট পার্টি। মধ্যে কংগ্রেস, আরজেডি ইত্যাদি ধর্মনিরপেক্ষ দল, ছিল রিজিওনাল বা আঞ্চলিক দল, যারা তাদের সুবিধে মতো কখনও বিজেপি, কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছে, আবার কখনও স্বাধীন সত্তা নিয়ে রাজনীতি করেছে, করছে।

আরও পড়ুন: রামলীলা ময়দান, বিরোধী ঐক্যের কিসসা, বিরোধীরা কতটা ঐক্যবদ্ধ?

এবার আসুন ৪৭ থেকে দেশের পরিবর্তিত রাজনীতির মূল সূত্রটা ধরা যাক। কংগ্রেস চিরটাকাল হিন্দু মহাসভা, জনসঙ্ঘ, বিজেপির বিরোধিতা করেছে, যদিও দলের মধ্যেই কিছু নেতা ছিলেন দক্ষিণপন্থী, তবুও মোটের উপরে লেফট টু সেন্টার, বা বাম ঘেঁষা মধ্যপন্থার রাজনীতিই করেছে কংগ্রেস। যদিও নরসিমা রাও, বা মনমোহন সিংয়ের সময় অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বায়ন, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বেচে দেওয়া ইত্যাদি সেই নীতির সঙ্গে একেবারেই মানানসই ছিল না, এখন সেই ভুল তাঁরা বুঝতে পারছেন বটে, কিন্তু তাঁদের জনভিত্তি কমেছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। আরএসএস-এর নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা, জনসঙ্ঘ, বিজেপি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের সঙ্গে আঁতাঁত করেছে, নিজেদের গুরুত্ব আর প্রভাব বাড়িয়েছে, সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তারা তাদের মূল দর্শন, মূল লক্ষ থেকে এক ফোঁটাও সরেনি, সময় মতো চুপ করে থেকেছে, ক্ষমতা বাড়তেই নিজেদের এজেন্ডাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। বাম দল, কমিউনিস্ট পার্টি, সোশ্যালিস্ট পার্টি ৯০-এর দশক পর্যন্ত, তাদের চূড়ান্ত কংগ্রেস বিরোধিতার রাজনীতি করেও কংগ্রেসের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। বরং তাদের কংগ্রেস বিরোধিতার সুযোগ নিয়েছে হিন্দু মহাসভা, জনসঙ্ঘ, আরএসএস–বিজেপি। মজার কথা হল, যখন কংগ্রেস তার বাম ঘেঁষা মধ্যপন্থা থেকে সরে এসে খোলা বাজার, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বিলোপ ইত্যাদি করছে, ঠিক সেই সময়ে বিজেপিকে আটকাতে, বামেরা কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে, বা করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের কোনও আঞ্চলিক দলই কোনও বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শ নয়, বরং তারা গড়ে উঠেছে আঞ্চলিক পরিচিতি, আঞ্চলিক চাহিদা আর কংগ্রেস বিরোধিতা থেকে, কাজেই তাদের টিকে থাকার জন্য তারা যে কোনও দিকে গেছে, যে কোনও সময়ে। কিন্তু এখনও বিজেপি দেশের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মানুষকে তাদের সমর্থনে আনতে পেরেছে এমন নয়, এমনকী তাদের হিন্দুত্বের এজেন্ডা, দেশের হিন্দুদের প্রতি দুজনের একজন সমর্থন করলেও, অন্যজন তা মেনে নেয়নি, এটাও বাস্তব। তারা এখনও মাত্র ৩৭.৩৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায়, এটা কেবল দেশের সংখ্যালঘুদের বিরোধিতার জন্য হয়নি, দেশের হিন্দু জনসংখ্যার অর্ধেক, হিন্দুত্বের নামে ভোট দেয়নি। কারণ কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান, বামেদের আরএসএস–বিজেপি বিরোধিতা এবং আঞ্চলিক দলগুলোর বিজেপি বিরোধিতা, এই বিরাট অংশের কাছেই এখনও আছে ৬০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। যে অঙ্ক আরএসএস–বিজেপিও বোঝে, তারাও ভালো করেই জানে দেশের রাজনীতির চাবিকাঠি ক্রমশ ক্রমশ আঞ্চলিক দলগুলোর কাছে চলে যাচ্ছে।

তাকিয়ে দেখুন তামিলনাড়ু, ওড়িশা, বাংলা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশের দিকে, উত্তর পূর্বাঞ্চল, গোয়া, কাশ্মীর, হরিয়ানার দিকে। এই প্রত্যেক রাজ্যে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোকে হয় বিজেপি নিজেদের সঙ্গে নিয়েছে, না হলে তাদের কাছে হেরেছে, বিজেপি হয় এই শক্তিগুলোকে নিজেদের সঙ্গে পেতে চাইছে, না হলে সর্বশক্তি দিয়ে তাদের উৎখাত করতে চাইছে। কিন্তু আজ এই বিজেপির এজেন্সি শাসন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অথর্ব করে দেওয়া, আঞ্চলিক চাহিদা, দাবিগুলোকে অস্বীকার করে এক জাতি, এক দেশ, এক নেতার বৃত্তে গোটা ভারতকে আনার চেষ্টাই জন্ম দিচ্ছে আরও তীব্র আঞ্চলিকতাবাদকে। কংগ্রেস আমলে যার জন্ম, কিন্তু এখন সে এক বিরাট আকার নিচ্ছে। এবং মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেস ছাড়া নাকি বিজেপি বিরোধী কোনও কার্যকরী ফ্রন্ট গড়ে উঠতে পারে না, বিষয়টাকে উল্টোদিক থেকে ভাবুন, ডিএমকে, বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, তেলঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি, তৃণমূল, ঝাড়খণ্ড পার্টি, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, লোকদল, এনসিপি, শিবসেনা ইত্যাদিদের বাদ দিয়েও কি কোনও ন্যাশন্যাল অলটারনেটিভ সম্ভব? এই সত্যিটা কংগ্রেসকেও বুঝতে হবে, এই সত্যিটা বামেদেরও বুঝতে হবে। রাজনীতির ইতিহাসকে সামগ্রিকতায় বোঝা যায়, খণ্ডিত সময়ে নয়। সেদিন যদি নিছক কংগ্রেস বিরোধিতার বদলে কংগ্রেসকে সমূলে উৎখাত করা যেত, এক বিকল্প গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করা যেত, দূরে সরিয়ে রাখা যেত দেশের সাম্প্রদায়িক চরম দক্ষিণপন্থী রাজনীতিকে, তাহলে আজ বাম বা কংগ্রেস, কারওরই এই দুরবস্থার মধ্যে পড়তে হত না, সামগ্রিকতার বিচারে সেদিন ভুল হয়েছিল। আজ দেশের বাম, প্রত্যেক আঞ্চলিক দল এক মঞ্চে, কিন্তু সে কেবল নির্বাচনী জোটের লক্ষ্য নিয়ে, এক ধরনের চালাকি কাজ করছে, এখানের ভোট ওখানে জুড়ে আমাদের লাভ কিসে তা নিয়েই চিন্তিত প্রত্যেক বিরোধী দল। কিন্তু তারাই যদি আসল বিপদটা বুঝতে পারত, তাহলে এমনটা হত না। বামেদের বুঝতে তো হবেই যে কেন তারা বাংলায়, ত্রিপুরাতে আর ঘুরে দাঁড়ানোর জমি পাচ্ছে না, কেন সেই চেষ্টা ক্রমশ বিজেপিকে শক্তিশালী করছে? তৃণমূল ইত্যাদি আঞ্চলিক দলকে তো বুঝতে হবে একবার বিজেপি এসে গেলে আঞ্চলিক যাবতীয় আকাঙ্ক্ষার গোড়ায় বিষ ছড়িয়ে দেবে আরএসএস-বিজেপি। তাদের রাজত্বের দিকে তাকান, সেখানে আঞ্চলিক চাহিদা আকাঙ্ক্ষার কবর খোঁড়া হয়েছে সেই কবেই। কংগ্রেসকে বুঝতে হবে, কংগ্রেস কোনওদিনও রাজনৈতিক দল ছিল না, ছিল এক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাস আর আদর্শকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল, আজ সেই প্ল্যাটফর্মকে আরও বড় করতে হবে, সবাই কে আনতে হবে সেই আঙিনাতে। নিজেদের দলীয় স্বার্থ আর এমপি এমএলএ গিনতির সঙ্গে সংবিধান বাঁচানো, গণতন্ত্রকে বাঁচানো সম্ভব নয়, সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল, সেই ভুল যেন আবার না হয়, সে ভুলের খেসারত দেওয়ার সময়ও থাকবে না, সুযোগও থাকবে না।

RELATED ARTICLES

Most Popular