৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার,
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
11
12
K T V Clock
Bharat Jodo Yatra: বারবার ধর্মস্থান দর্শনে ভারত জুড়তে পারবেন রাহুল?
আশিস চট্টোপাধ্যায়
আশিস চট্টোপাধ্যায় Edited By: 
  • আপডেট সময় : ১৯-০৯-২০২২, ২:৪৭ অপরাহ্ন
Bharat Jodo Yatra:  বারবার ধর্মস্থান দর্শনে ভারত জুড়তে পারবেন রাহুল?
পইতে, রাহুল ও জীবনের ওঠা-পড়া

প্রথম পর্ব

পিতা, ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধি। দেড় সপ্তাহ পার করে সে মিছিল ইতিমধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। ব্যতিক্রমী এটাও যে সারা দেশের মিডিয়া কংগ্রেসের এই কর্মসূচি বেশ উৎসাহের সঙ্গে কভার করছে। কলকাতা টিভি-তে আমরাও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এ নিয়ে খবর করছি। ১৫০ দিন ধরে এই যাত্রা ৩ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার হাঁটবে, এ পর্যন্ত এটাই ঘোষণা হয়েছে। তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী থেকে পদব্রজে এই যাত্রা শুরু হয়েছে, শেষ হবে জম্মু-কাশ্মীরে, পাঁচ মাস পরে। ২৩০ জন স্থায়ী যাত্রীদের রাতে শোওয়ার ব্যবস্থা ট্রাকে; যুবক, মধ্যবয়সি থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত নানা বয়স জাতি ও ধর্মের মানুষ এই দীর্ঘ যাত্রায় শামিল; পথে স্থানে স্থানে সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, এক কথায় বর্ণময় এক ইতিহাসের সাক্ষী কংগ্রেস কর্মীরা। কিন্তু কংগ্রেসের ইতিহাস থেকে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ দেশের ইতিহাসে নাম তুলতে পারবে তো?

যাত্রা শুরুর জন্য রাহুল বেছে নিয়েছেন মন্দির নগরী কন্যাকুমারীকে। ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হবার কারণে কন্যাকুমারী নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দেয়নি। ৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু, ১০ অক্টোবর তিনি শ্রী নারায়ণ গুরুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ট্যুইট করলেন। এটা ঠিকই যে জাত-পাত প্রথার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন শ্রী নারায়ণ গুরু (২০ আগস্ট ১৮৫৬ – ২০ সেপ্টেম্বর ১৯২৮), কিন্তু তাঁর পথ ছিল ধর্মীয় পথ। একটি পাথর খণ্ডকে শিবরূপে পুজো করতে শুরু করেন তিনি, উচ্চবর্ণের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করেই। সেটা ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা। সেই প্রস্তরখণ্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা মন্দির আজও রয়েছে, নারায়ণ গুরুর প্রতিষ্ঠিত আরও নানা মন্দিরেও উপাসনা হয়। নারায়ণ গুরুকে শ্রদ্ধা জানানো রাহুলের ব্যক্তিগত পছন্দ হতেই পারে, তাতে আপত্তি জানাবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ চলতে থাকা অবস্থায় কেন? ১০ তারিখ অবশ্য মনে হয়েছিল, সেটাকে তত গুরুত্ব দেবার কিছু নেই। কিন্তু আবার ১৪ তারিখে তিনি কেরালায় শিবগিড়ি মঠে যান, শ্রী নারায়ণ গুরুকে শ্রদ্ধা জানান।


কর্মসূচিটির দশম দিনে, ১৭ সেপ্টেম্বর, রাহুল চলে গেলেন আরেক জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাতা অমৃতানন্দময়ী-র কাছে, তাঁর আশীর্বাদ নিলেন, ছবি-টবিও উঠল। যাত্রাপথে আরও অসংখ্য মন্দির, ধর্মগুরুদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান পড়বে। সকালটা দেখে যারা সারাদিন সম্পর্কে ধারণা করেন, এ পর্যন্ত দেখে তেমন মানুষেরা ভাবছেন, রাহুলও ধর্মীয় স্থানে পুজো দিতে দিতেই হয়তো এগোবেন। প্রশ্ন উঠছে, এই পথে কী জোড়া যাবে ভারতকে?

মনে রাখা দরকার, কেবল এই ‘যাত্রা’ কর্মসূচিতেই নয়, নানা নির্বাচনের প্রচারের সময়েও একই কাজ বারবার করেছেন কংগ্রেসের এই তরুণ নেতা। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের কয়েক বছর আগে থেকে সেটা যেমন ঘনঘন দেখা গেছে, তেমনটি সম্ভবত তাঁর পূর্বসূরিরা কখনও করেননি। এই সময়েই জানা যায় যে তিনি ব্রাহ্মণ। পইতেধারী দ্বিজ। ঘটনাটা বেশ আকর্ষণীয়। বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরে আগতদের রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, রাহুলের নাম অহিন্দু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ওই খাতার নির্দিষ্ট পাতাটির একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে থাকে, হিন্দুত্ববাদীরাও শোরগোল ফেলে দেয়। কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া কী ছিল? কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা ২৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে জানিয়ে দেন, রাহুল কেবল হিন্দু নয়, উপবীতধারী হিন্দু। বিজেপির বিরুদ্ধেও এ নিয়ে মিথ্যে প্রচারের অভিযোগ তুলে একহাত নিয়েছিলেন সুরজেওয়ালা। এই পইতেটি সম্ভবত রাহুল যত্ন করে রাখেন, কেননা সেটি তাঁর পক্ষে রাজনীতিতে একটা জরুরি প্রয়োজন তো বটেই। তবে শতাব্দী প্রাচীন এই দলটি যে উপবীত সামনে রেখে রাজনীতিতে তেমন সুবিধা করতে পারেননি, সেটা তো ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট, পরবর্তীতে একটার পর একটা বিধানসভা ভোটে পরিষ্কার। এমনকী নিজের দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষে। তবে ভোটের প্রয়োজনে পইতে নিয়ে কাহানি মে ট্যুইস্ট ঘটতেও দেরি হয়নি। সেটা আবার ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শুরু হবার মাত্র ক’দিন আগে, ৪ আগস্ট ২০২২। তিনি হঠাৎ লিঙ্গায়েত ধর্মে দীক্ষা নিয়ে ফেলেন।



হিন্দু ধর্মের মধ্যেই একটি বিশিষ্ট ধরনের উপাসনা পদ্ধতি লিঙ্গায়েত বিশ্বাসধারা। কর্ণাটকের মধ্যভাগে অবস্থিত মুরুগা মঠের ধর্মগুরু শিবমূর্তি মুরুগা শরণ তাঁকে লিঙ্গায়েত বিশ্বাসে দীক্ষা দেন। মজার ব্যাপার হলো, লিঙ্গায়েত ধারায় বিশ্বাসীরা পইতে পরেন না। রাহুল ঠিক কী করেছেন জানা না গেলেও ধরে নেওয়া যেতে পারে ওই বালাইটি তিনি জীবন থেকে আপাতত বাদ দিয়েছেন। তবে নিশ্চিত ভাবে যা জানা গেছে, সেটা হলো এই যে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই, সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা, দু’জনেই লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ভুক্ত। কর্ণাটকে জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ এই সম্প্রদায়ভুক্ত হলেও এদের প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে রয়েছে। এই প্রভাব তথা ভোট ধরতেই যে রাহুলের লিঙ্গায়েত হওয়া, সে বিষয়ে তেমন কারও সন্দেহ নেই।

সূত্রদের থেকে রাহুলের পইতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দু-তিন ধরনের খবর মিলছে। নেহাতই ব্যক্তিগত যাপনের সে-সব ‘সূত্র মারফত পাওয়া’ খবর নিয়ে চর্চা না-ই বা করলাম। কিন্তু লিঙ্গায়েত রাহুল আপাতত পদযাত্রায় ব্যস্ত, ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’য়, যখন দেশের বিশাল অংশের মানুষ এক অজানা আশঙ্কায় সর্বনাশের প্রহর গুণছেন। জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে নয়া উত্তেজনা দেশের মুসলিম সমাজকে কেবল ভাবাচ্ছে না, উদ্বিগ্ন করেছে কোটি কোটি ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদেরও। এ নিয়ে কিছু কথা পরের কিস্তিতে।  

(চলবে)

Tags : rahul gandhi bharat jodo yatra

0     0
Please login to post your views on this article.LoginRegister as a New User

শেয়ার করুন


© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.