Placeholder canvas

Placeholder canvas
HomeScroll২৩ মিনিটের শাহি ভাষণে কি হতাশ বঙ্গ বিজেপি ?

২৩ মিনিটের শাহি ভাষণে কি হতাশ বঙ্গ বিজেপি ?

কী বার্তা পেলাম, প্রশ্ন দলের অন্দরেই

Follow Us :

দেবাশিস দাশগুপ্ত

অমিত শাহ (Amit Shah) কী বুধবার দলীয় কর্মীদের হতাশ করলেন? ধর্মতলায় এদিন মাত্র ২৩ মিনিট ভাষণ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলের অন্দরেই অনেকে বলাবলি করছেন, লোকসভা ভোটের আগে কলকাতায় বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ডের বক্তৃতায় তেমন ঝাঁঝ দেখা গেল না। বিজেপির সাধারণ কর্মীরা ভেবেছিলেন, শাহ গা গরম করা ভাষণ দেবেন, তৃণমূলকে কড়া বার্তা দেবেন, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কোনও হুঁশিয়ারি দেবেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে অনেক কিছু বলবেন। কিন্তু তাঁর ভাষণে সেসব কিছুই পাওয়া গেল না। সব মিলিয়ে শাহের ভাষণে হতাশই হয়েছেন বিজেপির সাধারণ কর্মীরা।

সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপির এক রাজ্য নেতাকে বলতে শোনা গেল, এর থেকে দিলীপ ঘোষকে আরও বেশি সময় দিলে তিনি জনতাকে তাতিয়ে দিতে পারতেন। শুধু দিলীপ কেন, কর্মী, সমর্থকদের তাতাতে পারতেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। কিন্তু বিধি বাম। তাঁর গলা বসে গিয়েছে। ভাঙা গলায় কোনও রকমে তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন। সে কথা সভা (BJP Dharmatala Rally ) শেষ হওয়ার পরে শুভেন্দু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে অকপটে স্বীকারও করেছেন। তিনি লেখেন, গলা ভেঙে যাওয়ায় আমি ঠিকমতো ভাষণ দিতে পারিনি। কিন্তু জনতার গর্জন এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক করে তুলেছে। সাবেক টুইটারে তাঁর দাবি, বিপুল সংখ্যক মানুষ অমিতজির ভাষণ শুনতে এসেছিল। দলের কার্যকর্তারা এবং সমর্থকরা অমিতজির ভাষণে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

রাজনৈতিক মহল অবশ্য অন্য কথা বলছে। ওই মহলের মতে, বলতে হয়, তাই শুভেন্দু তাঁর এক্স হ্যান্ডলে এই কথা বলেছেন। সত্যি বলতে কী, শাহের ভাষণে এদিন তেমন কোনও রসদই মেলেনি। একই সঙ্গে লোক সমাগম নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছিলেন, বুধবার শহর স্তব্ধ হয়ে যাবে। শুভেন্দুর দাবি ছিল, জনপ্লাবন হবে। কিন্তু শহর এদিন একেবারে স্তব্ধ হয়ে যায়নি, সেরকম জনপ্লাবনও দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: মোদি, শাহ চোর, বিধানসভার লনে তৃণমূলের স্লোগান

শাহ এদিন বাংলায় ২০২৬ সালে পরিবর্তনের ডাক দেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি জনতাকে ভারতমাতা কী জয় বলতে বলেন। কিন্তু গলার আওয়াজ সেভাবে শোনা যায়নি। অমিত বলেন, এই আওয়াজে হবে না। আরও জোরে বলতে হবে। আমার সঙ্গে দুই হাত তুলে জোরের সঙ্গে বলুন, ভারতমাতা কী জয়।

অমিত বলেন, আমি ২০১৪ সালে এখানে এসেছিলাম। বাংলার মানুষকে তৃণমূলকে হঠানোর ডাক দিয়েছিলাম। বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ, তারা ১৮ জন সাংসদ এবং ৭৭ জন বিধায়ক উপহার দিয়েছে বিজেপিকে। শাহ যে কথা বলেননি, তা হল, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে তাঁর দাবি ছিল, অব কী বার, দুশো পার। কিন্তু দুশো তো দূর অস্ত। বিধানসভায় বিজেপির আসন একশোও ছুঁতে পারেনি, ৭৭ এ এসে আটকে গিয়েছে। তার মধ্যে আবার কয়েকজন বিধায়ক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

শাহ বলেন, এখানে আমাদের ২১২ জন কার্যকর্তা খুন হয়েছেন। দেশ এবং বাংলার সমস্ত কার্যকর্তা এর বদলা নেওয়ার জন্য তৈরি। সেই বদলা হবে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে পরিবর্তন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আর বাকি দলগুলি মিলে বাংলাকে শেষ করেছে। মমতা অনুপ্রবেশ রুখতে পারেননি। এক সময় তিনি অনু্প্রবেশ ইস্যুতে সংসদ চলতে দিতেন না। এখন সেই তিনিই খোলাখুলি অনু্প্রবেশকারীদের আধার কার্ড দিচ্ছেন। তৃণমূল বাংলাকে সব দিক দিয়ে পিছনে ফেলে দিয়েছে। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে একমাত্র বিজেপি।

আরও অনয খবর দেখুন

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments