Placeholder canvas
HomeআজকেAajke | সিপিএমের দেওয়াল লিখন তো শুরু হল, আসন ক’টা পাবে?
CPM

Aajke | সিপিএমের দেওয়াল লিখন তো শুরু হল, আসন ক’টা পাবে?

এবার কি সেই ভোট বাড়ার সম্ভাবনা আছে? বাড়লে কার সুবিধে?

Follow Us :

সারা দেশে সিপিএম-এর নির্বাচনী রণনীতি নানান রকমের, এ তো সবাই জানেন। কেরালাতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস, বাংলাতে তৃণমূল। রাজস্থানে কংগ্রেস, বিজেপি, তেলঙ্গানাতে কংগ্রেস বিজেপি, ত্রিপুরাতে বিজেপি। ভারি গোলমেলে এই হিসেবের কথা সব্বাই জানেন যদিও সিপিএম একটি আদর্শবাদী দল। এখন বাকি জায়গার মধ্যে কেরালা বা ত্রিপুরা নিয়ে কোনও ধোঁয়াশা নেই, সেখানে শত্রু নির্দিষ্ট, কৌশল জানা আছে। দেবেগৌড়ার দল এনডিএ-তে চলে গেছে তো কি, ওনার দল কেরালাতে সিপিএম-এর সঙ্গেই আছে। রাহুলের ন্যায় যাত্রায় কমরেড সেলিম, কমরেড সুজন গিয়েছেন, কিন্তু কেরালাতে সেই রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রাতে পিনারাই ভিজয়ন যাননি, যাওয়ার প্রশ্নই ছিল না। যদিও সিপিএম একটি আদর্শবাদী দল। এই বাংলা নিয়ে ভারি দোটানাতে আছে সেই আদর্শবাদী দলটি। ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের কী করিতে হইবে বইটা সাড়ে ছাপ্পান্নবার পড়ার পরেও এই বাংলাতে তাঁদের কী করিতে হইবে তা বুঝে উঠতে পারছে না সিপিএম নেতৃত্ব। প্রথমে ওই জোট হচ্ছে, মমতা কংগ্রেস জোট হলে আদর্শের কাঁথায় আগুন ধরে যাবে অতএব জোট হইবে জোট হইবে না দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল এই আদর্শবাদী বিপ্লবী দল। এমনকী ন্যায় যাত্রাতে কে যাইবে? তাও ঠিক করে উঠতে পারছিল না এই দল। মমতা নির্ভর এই দল যেই শুনল মমতা জোট হবে না বলে জানিয়েছেন, সেই মাত্র মমতা কি বাত সর আঁখো পর মনে করেই হই হই করেই চলে গেলেন ন্যায় যাত্রায়। ন্যায় যাত্রায় যাও গো বলে শতরূপ থেকে কমরেড সেলিমের সহাস্য মুখের ছবি ছাপা হল, অধীরও বাড়তি অক্সিজেন পেলেন। কিন্তু আবার হাওয়াতে টক টক গন্ধ, কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনও নরম নরম কথা বলছেন। তাঁরা জানেন বাংলায় দুটো তিনটে আসনের চেয়ে মমতার ইন্ডিয়া জোটে থাকাটা জরুরি, বিরোধী জোটের পার্সেপসনটা জরুরি, কাজেই তাঁরা সুর নরম মিহি মসৃণ করে রেখেছেন। অমনি মুর্শিদাবাদে জলঙ্গি বিধানসভা এলাকাতে দেওয়াল লিখন দেখা গেল, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ডট ডট ডট ডট সিপিআইএম প্রার্থীকে ভোট দিন। অর্থাৎ আসন সমঝোতার আগেই একতরফা আসনের দাবিদার হয়ে ওঠা। এটা আসলে আসন সমঝোতার জন্য চাপ দেওয়া এবং চাপটা মোক্ষম জায়গাতেই দেওয়া, যেখান থেকে রাহুলের রথ গেল, সেখানেই চাপ। সেটাই আমাদের বিষয় আজকে, সিপিএম-এর দেওয়াল লিখন তো শুরু হল, আসন ক’টা পাবে?

এ বাংলায় সিপিএম-এর আসনের অনুমান আর হিসেব করার আগে দেখতে হবে তো যে সিপিএম-এর ভোট কী রকম ছিল, এখন কী অবস্থায় আছে। অর্থাৎ মা যাহা ছিলেন এবং মা যাহা হইয়াছেন, সেটা ভালো করে দেখলে খানিকটা হিসেব তো বোঝাই যাবে। তো আসুন ২০০৯ থেকে শুরু করা যাক, তখনও বামফ্রন্ট ক্ষমতায়, জ্যোতি বসু কম হলেও প্রচার করেছিলেন। সেই ২০০৯-তে সিপিএম-এর ভোট ৩৩.১ শতাংশ, তৃণমূলের ভোট ৩১.২ শতাংশ আর বিজেপির ১৩.৪৫ শতাংশ। মাথায় রাখুন সেই সময়ে কংগ্রেস হল আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের দালাল, পারমাণবিক চুক্তি করে দেশকে বেচে দিয়েছে। তৃণমূল এবং কংগ্রেস জোট এক ধাক্কায় এসইউসিআইকে নিয়ে ২৬টা আসন।

আরও পড়ুন: Aajke | কমরেড সেলিম রাহুল গান্ধীকে বললেন ধরুন হাত

চলুন ২০১৪, অষ্টম বাম সরকার হয়নি, তৃণমূলের সরকার এসেছে ২০১১তে, তৃণমূল ৩৯.৮ শতাংশ, সিপিএম তখনও ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে, বিজেপির ভোট বেড়ে ১৭ শতাংশ। মানে সিপিএম-এর যতটা কমেছে, বিজেপির ততটা বেড়েছে। ২০১৯ তৃণমূল ইতিমধ্যে আবার জিতে এসেছে বিধানসভায়, এবারে তৃণমূলের ভোট ৪৩.৩ শতাংশ, বিজেপির ৪০.৭ শতাংশ আর সিপিএম-এর ৬.৩৩ শতাংশ। মানে আবার যতটা ভোট সিপিএম-এর কমেছে ততটা ভোট বিজেপির বেড়েছে। তার পরে আবার একটাই ভোট হয়েছে দেশের নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে, ২০২১-এর বিধানসভা ভোট। এবারে তৃণমূল ৪৮.২ শতাংশ, বিজেপি ৩৭.৯৭ শতাংশ সিপিএম ৪.৭৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তার মানে সেই ২০০৯ থেকে সিপিএম-এর ভোট নিয়ম করে কমেছে, কংগ্রেসের হাত ধরেও সিপিএম-এর ভোট বাড়েনি, বাড়ার কথাও নয়। কিন্তু সিপিএম-এর ভোটের সামান্য অংশ পেয়ে কংগ্রেস ২০১৯-এ ২টো আসন পেয়েছে, দুটো আসনে লড়াইও করেছে। কাজেই এবারে তৃণমূল কংগ্রেস আর কংগ্রেসের জোট হলে কংগ্রেস ৩ কি চার আসনে জেতার জন্য লড়তেই পারে, কিন্তু কংগ্রেস সিপিএম-এর জোট হলেও সিপিএম-এর লাভ কতটা? হিসেব বলছে কংগ্রেস সিপিএম জোট হলে তৃণমূলের এক সামান্য অংশ মুসলমান ভোট সরে গেলেও যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচন যত সামনে আসবে, মমতা এবং বিজেপির প্রচার তত বাড়বে এবং আবার যদি এই বাংলায় হয় বিজেপি নয় তৃণমূল এই বাইনারিটাই খাড়া হয়ে যায় তাহলে সংখ্যালঘু ভোট আবার সেই মমতার দিকেই পড়বে। সে হিসেব আরেক দিন। আজ হিসেব সিপিএম ভোটের। ঘুরে দাঁড়াবে সিপিএম? কোথায়? কোন জেলাতে? গোটা রাজ্যে সিপিএম-এর যদি ৬ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ ভোটও বাড়ে তাহলেও আসন একটা জুটবে না। কিন্তু তাদের ৬-৮ শতাংশ ভোটবৃদ্ধি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বিজেপিকে। কারণ মমতা বিরোধী সিপিএম-এর ভোটই গিয়েছিল বিজেপিতে, সে ভোট যদি আবার সিপিএম-এ যায় তাহলে বিজেপির ক্ষতি। কিন্তু আজও সিপিএম-এর সেরকম অগ্রগতির সাড়াশব্দ দেখা যাচ্ছে না। খুব বেশি হলে তারা রাজ্যজুড়ে ৩-৪ শতাংশ ভোট বেশি পেতে পারে, যার বেশিরভাগ, মানে ৯০ শতাংশ আসবে বিজেপির কাছ থেকে, সরকার বিরোধী ভোটের ঝুলি থেকে। আমরা আমাদের দর্শকদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০১৬, ২০১৯ প্রত্যেকটা লোকসভায় ধারাবাহিকভাবে সিপিএম-এর ভোট কমেছে, ২০০৯-এ ৩৩ শতাংশ ভোট থেকে ২০১৯-এ ৬ শতাংশ ভোটে দাঁড়িয়েছে, এবার কি সেই ভোট বাড়ার সম্ভাবনা আছে? বাড়লে কার সুবিধে?

সেদিন আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক চুক্তির বিরুদ্ধে এক আদর্শগত অবস্থান নিয়েই সিপিএম কংগ্রেসের উপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছিল। তারপরে এমনও নয় যে সে চুক্তি হয়নি, কংগ্রেস সরকার সেই চুক্তি করেছিল, সেই চুক্তি এখনও বজায় আছে। কিন্তু সেদিনের সাম্রাজ্যবাদের দালাল, যারা নাকি দেশকে বিক্রি করেছে, সেই তারাই এখন এ বাংলায় হতে পারে পরিত্রাতা, অন্তত সিপিএম সেভাবেই ভাবছে। কিন্তু হিসেব বলছে জোট হলে কংগ্রেসের সামান্য সুবিধে হলেও হতে পারে, সিপিএম-এর কোনও আসন এই জোটের ফলে আসবে না। এটা পরিষ্কার যে নিছক মমতা বিরোধিতার জায়গা থেকেই আবর্তিত হচ্ছে সিপিএম-এর রাজনীতি।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments