Placeholder canvas
HomeScrollঅপারেশন জিন্দেগি'র আসল হিরো ৬ খনি শ্রমিকের মাথাতেই বিজয় মুকুট

অপারেশন জিন্দেগি’র আসল হিরো ৬ খনি শ্রমিকের মাথাতেই বিজয় মুকুট

উত্তরকাশীতে জ্বলে উঠল আনন্দের নব দেওয়ালি

Follow Us :

সিলকিয়ারা (উত্তরকাশী): ৪০০ ঘণ্টারও বেশি লড়াই ‘অপারেশন জিন্দেগি’র (Operation Zindagi)। আর এই মৃত্যুকূপে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের নায়করা হলেন মধ্যপ্রদেশের ৬ ব়্যাটহোল মাইনার্স (Real Hero 6 Miners of Operation Zindagi)। বিজ্ঞানের শক্তি যেখানে অসহায়ভাবে ব্যর্থ, তখন এঁরাই আদ্দিকালের ইঁদুরের গর্ত করার পদ্ধতিতে পাহাড় খুঁড়ে বের করে আনলেন আটক শ্রমিকদের। ১৭ দিনের প্রকৃতির সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে ৪১ জনের জীবন-সংগ্রামের আসল হিরো তাঁরাই।

রাকেশ রাজপুত নামে এক সুড়ঙ্গ খননকারী বলেন, আমাদের মধ্যে তিনজন সুড়ঙ্গের ভিতরে গিয়েছিলাম। একজন ড্রিলিংয়ের কাজ করে। আরেকজন পাথরের চাঙড় সংগ্রহ করে। এবং আরেকজন সেই টুকরো ও চাঙড় ট্রলিতে তুলে ফেলে। তিনি জানান, এরকম কাজ আমরা গত ১০ বছর ধরে করে আসছি। এখানে তো দেখছি ঢোকার অনেক জায়গা আছে। যাঁরা ভিতরে আটকে রয়েছেন তাঁরাও শ্রমিক, আমরা সকলেই চেয়েছিলাম সকলকে ‘জিন্দা’ বের করে আনতে।

ঝাঁসির বাসিন্দা আরও এক ব়্যাটহোল মাইনার প্রসাদী লোধি বলেন, দিল্লি এবং আমেদাবাদে এ ধরনের কাজ আমি গত ১০-১২ বছর ধরে করেছি। কিন্তু, কোনও সুড়ঙ্গে আটক শ্রমিকদের উদ্ধার করার কাজ এই প্রথম। এতদিনের অভিজ্ঞতা এবারেই মনে হচ্ছে প্রকৃত কাজে লাগল। তিনি বলেন, আমরা হাতে ধরার মতো খোঁড়ার যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার করার পাইপে ঢুকেছিলাম। তাই দিয়েই পাথরের টুকরো, গুঁড়ো ধুলোবালি, ময়লা সরাতে হয়। একাজে আমাদের কোনও ভয় ছিল না। কারণ, এটা ৮০০ মিমি পাইপ ছিল। এর আগে ৬০০ মিমি গর্তেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল আমাদের।

আরও পড়ুন: মৃত্যুকূপ থেকে বেরিয়ে এলেন প্রথম শ্রমিক

ঝাঁসিরই বাসিন্দা বিপিন রাজপুত বলেন, তিনি গত ২-৩ বছর ধরে এই কাজ করছেন। আমাদের দক্ষতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনও সংশয় ছিল না। আমরা জানতাম ১০-১২ মিটার পাথর কেটে বের করা কোনও ব্যাপারই নয়।

শুধু ব়্যাটহোল মাইনার্সরাই নন, এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার পিছনে রয়েছে কয়েকশো উদ্ধারকারীর দিনরাত এক করে দেওয়া পরিশ্রম। তার মধ্যে বিদেশি সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সেনাবাহিনী, কেন্দ্র ও অন্য রাজ্যগুলির বিভিন্ন সংস্থার মিলিত চেষ্টায় উদ্ধারকাজ চলে। এর মধ্যে একজন হলেন আইএএস অফিসার নীরজ খারিওয়াল। তিনি উত্তরাখণ্ড সরকারের একজন সচিব। গত ১০ দিন ধরে তিনিই ছিলেন এই অভিযানের নোডাল অফিসার।

ক্রিস কুপার হলেন মাইক্রো-টানেলিং বিশেষজ্ঞ। কয়েক দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কুপার ১৮ নভেম্বর থেকে সিলকিয়ারায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন। চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার কুপার পরিকাঠামো, মেট্রো টানেল, বড় গুহা, বাঁধ, রেলপথ এবং খনি প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ। হৃষীকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল প্রকল্পের উপদেষ্টাও কুপার।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈদ আটা হাসনান হলেন এনডিএমএ-র সদস্য। তাঁর তদারকিতেই চলেছে উদ্ধারকাজ। সুড়ঙ্গ খননের বিশেষজ্ঞ অস্ট্রেলীয় আর্নল্ড ডিক্সও গত বেশ কিছুদিন ধরে সিলকিয়ারায় রয়েছেন। ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খোদাইয়ের কাজে আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে তাঁর। আমেরিকান অগার মেশিনের কাজের তিনিই তদারকি করছিলেন।

আরও অন্য খবর দেখুন

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments