Placeholder canvas

Placeholder canvas
HomeআজকেAajke | বিজেপি সাংসদকে লস্কর ই তইবার লেখা বিনীত চিঠি
Aajke

Aajke | বিজেপি সাংসদকে লস্কর ই তইবার লেখা বিনীত চিঠি

সংবাদমাধ্যমে জায়গা পাওয়ার জন্য কত কিছু কতজনে করে

Follow Us :

নির্বাচন এলে কত রকমফের নৌটঙ্কি দেখা যায়, তার ইয়ত্তা নেই। একঘর সেসব মজা এখন চলতেই থাকবে। ক’দিন আগেই আমাদের দেশের অত্যন্ত মিথ্যেবাদী প্রধানমন্ত্রী বাংলার প্রত্যেক মানুষকে হিসেব মতো ২৮০-২৯০ টাকা দেওয়ার কথা জোর গলায় বলেছেন, সে ছিল এক রগড়। ক’দিন আগে তৃণমূল প্রার্থী দিদি নম্বর ওয়ান রচনার সেই রচনা, ধোঁয়া ধোঁয়া শিল্পের কথা সব্বাই শুনেছে। আজ আরেক রগড়ের কথা। মতুয়া ঠাকুর বংশের শান্তনু ঠাকুর কেবল সাংসদ নয়, তিনি মন্ত্রীও বটে। অনেকে বলে জাহাজঘাটার মন্ত্রী, তা হোক, মন্ত্রী তো। তো সেই হেন মন্ত্রীকে লস্কর ই তইবার তরফে এক হুমকির চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন সমস্যা হল আমাদের দর্শকরা অনেকেই আদার ব্যাপারি, তাঁদের জাহাজের খোঁজখবর তো জানা নেই, তাই এই লস্কর ই তইবা বস্তুটা কী? এরা কারা? এরা করেটা কী? একটু দু’ চার কথায় বলে নিই। কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার শপথ নিয়ে হাফিজ সইদ, জাফর ইকবাল শাহবাজ, আবদুল্লা আজম ইত্যাদি কয়েকজন কট্টরপন্থী ইসলামিক উগ্রপন্থী ৮৫-৮৬ সাল নাগাদ এক উগ্রপন্থী সংগঠন তৈরি করে, যাদের টাকা জোগাত ওসামা বিন লাদেন। পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নেপাল আর আফগানিস্তান জুড়ে এরা কাজ চালায়। জম্মু-কাশ্মীরে অসংখ্য বিস্ফোরণ, হত্যা, লালকেল্লা তে, সংসদ ভবনে আক্রমণ, মুম্বইয়ে ২৬/১১ হানাদারি, এসব এদের কাজ। হিন্দিতে যাকে বলে খুংখার আতঙ্কবাদী, এরা হল সেই গোত্রের টেররিস্ট। তো আমাদের জাহাজ মন্ত্রী, আদতে এক হাফ মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে সেই দুর্ধর্ষ লস্কর ই তইবা এক হুমকিভরা চিঠি পাঠিয়েছে। বিজেপিই হন আর যাই হন দেশের মন্ত্রী বলে কথা, তাঁকে হুমকি? কীভাবে দেওয়া হল? সেই চিঠিতে কী বলা হল? সেটাই বিষয় আজকে, বিজেপি সাংসদকে লস্কর ই তইবার লেখা বিনীত চিঠি।

সেই দুর্ধর্ষ দুষমন লস্কর ই তইবা তাদের ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাতে চিঠি পাঠাল। ইন ফ্যাক্ট এর আগে কোনও ভাষাতেই চিঠি পাঠিয়েছে বলেও স্মরণে আসছে না। উগ্রপন্থী সংগঠন তো রঘু ডাকাত বা রবিন হুড নয় যে আগেভাগে চিঠি পাঠিয়ে সাবধান করে জানিয়ে তারপরে বোমা ফাটাবে। তারা কাজ করার পরে একখানা বিবৃতি জারি করে কখনও সখনও। সেসব বিবৃতিও আবার বেশিরভাগই রেকর্ডেড ভিডিও হয়।

আরও পড়ুন: Aajke | মোদিজি আবার মিথ্যের ঝোলা নিয়েই বাংলাতে প্রচারে নেমেছেন

কিন্তু এই প্রথম চিঠি এল, বাংলাতেই এল। খালি তাই নয়, চিঠির শুরুতেই বলা হয়েছে শ্রদ্ধেয় শান্তনুবাবু, মানে এই বিজেপির সাংসদ মন্ত্রী লস্কর ই তইবার কাছে একজন শ্রদ্ধেয় মানুষ। তারপরেই এক্কেবারে দিদান, ঠাম্মা, রাঙা কাকা, ছোটকার মতো একটা লাইন, আশা করি ভালো আছেন। আশায় মরে চাষা আর এ তো সামান্য লস্কর ই তইবা। তারপরেই তাঁরা বিষয়ে ঢুকে পড়েছেন, লিখেছেন, আপনাকে জানাচ্ছি যে এই বাংলায় যদি এনআরসি হয় আর এনআরসি হলেই শুধু নয়, যদি এনআরসির সময়ে মুসলমানদের উপর অত্যাচার হয় তাহলে বাংলা আর ভারত জ্বলবে এবং ঠাকুরবাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হবে, উড়িয়ে দেওয়া হবে। এটাকে নিশ্চয়ই হুমকি বলাই যাবে। এরপর এল সেই লাইনটা, আরে ও শাম্ভা, ইয়াহা সে দশ দশ কোস দূর কে গাঁও মে বচ্চে যব রোতে হ্যাঁয়, তব মা কহতি হ্যায় সো যা নহিতো গব্বর আয়েগা। মানে গব্বর জানান দিল সে কে। আমিই গব্বর, এরকম ব্যাপার এনারাও করলেন, জিজ্ঞেস করলেন লস্কর ই তইবা জানেন তো? আমরাই হলাম সেই দুর্ধর্ষ দুষমন, লস্কর ই তইবা। এরপরে আবার হুমকি এবং তারপরে ধন্যবাদ। হ্যাঁ, শান্তনু ঠাকুরকে এই হুমকি ভরা চিঠি দেওয়ার পরে লস্কর ই তইবা ধন্যবাদও জানিয়েছে। প্রণাম করলেও পারত, কিন্তু মুসলমানি রীতিনীতিতে মানায় না বলেই হয় তো কেবল ধন্যবাদ। এবং সেখানেই শেষ নয়, নিজেদের নাম ঠিকানার উপরে লিখেছেন বিনীত। আহা কী বিনয়, এঁরা নিশ্চয়ই বৈষ্ণবীয় লস্কর ই তইবা এবং কী বিনয়, ভাবা যায়? এর আগে পরশুরামের লেখাতে মার্কসীয় বৈষ্ণব তত্ত্বের খোঁজ আমরা পেয়েছি কিন্তু এমন বিনয়ী উগ্রপন্থা আগে আমরা দেখিনি। চিঠি পেয়েই শান্তনু ঠাকুর তো উত্তেজিত, আফটার অল, লস্কর ই তইবা বলে কথা। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা কোনও দিন কোনও উগ্রপন্থীকে চিঠিতে কুশল মঙ্গল জিজ্ঞেস করতে দেখেছেন? কোনও ইসলামিক টেররিস্ট হুমকি চিঠির শেষে কখনও ধন্যবাদ জানায়, জান সে মার দুঙ্গা, শুক্রিয়া, বলে নাকি? এরকম আজগুবি চিঠি দিয়ে আমাদের হাফ মন্ত্রী কী জানাতে চাইলেন? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

আসলে নির্বাচনে সংবাদমাধ্যমে জায়গা পাওয়ার জন্য কত কিছু কতজনে করে। মজার মজার কত কিছু। নিজেদের গাড়ির কাচ ভেঙে আক্রান্তের অভিনয় আমরা দেখেছি, নিজেদের ব্যানার পোস্টার নিজেরাই ছিঁড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখেছি। কিন্তু এরকম হাস্যকর এক হুমকির চিঠি এনে নিজেকে আরও হাস্যকর করে তোলার এই চেষ্টার কোনও তুলনা হয় না। আচ্ছা, এসব করার আগে তো নিশ্চয়ই পরিকল্পনাও হয়েছিল, নিশ্চয়ই কিছু পরামর্শদাতাও ছিলেন, তাঁদের চাকরি থাকবে তো? মানুষ বোকা, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, শান্তনু ঠাকুর কেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর ১৫ লক্ষের গুলগল্পও যখন মানুষ অনায়াসে মেনে নেয় যখন তখন বলাই যায় যে সেই আমজনতা মানে আমরা বোকা। কিন্তু আমরা কি এতটাও বোকা শান্তনুবাবু? এই লস্কর ই তইবার রগড়ের চিঠি নির্বাচন জুড়ে আপনার পিছনে লেগে থাকবে, মিলিয়ে নেবেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular