Placeholder canvas

Placeholder canvas
HomeScrollআজকে (Aajke) | অভিষেকের হেলিকপ্টারে কী পাওয়া গ্যালো?
Abhishek Banerjee

আজকে (Aajke) | অভিষেকের হেলিকপ্টারে কী পাওয়া গ্যালো?

Follow Us :

গ্রীসে সেই প্রাচীনকালে বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে বসতেন সম্রাট, অভিজাত বর্গের মানুষজন, কিছু সাধারণ নাগরিকও। তারপর খাঁচা থেকে ছেড়ে দেওয়া ক্ষুধার্ত বাঘের সঙ্গে গ্ল্যাডিয়েটরের, এক যোদ্ধার লড়াই হতো। কিন্তু সেই যোদ্ধাকেও বাছা হত যথেষ্ট মাপঝোক করে, তার হাতে লাগসই অস্ত্রও দেওয়া হত। কারণ লড়াই সমান শক্তিশালীর মধ্যে না হলে সেই লড়াই তো লড়াই নয়, তা হয়ে ওঠে তামাশা। মোগল আমলে পাগলা হাতিকে ছেড়ে দেওয়া হত বন্দী যোদ্ধার সামনে, তা নিশ্চই ছিল এক ঘৃণ্য তামাশা যেখানে সেই মানুষটার মৃত্যু স্বাভাবিক। আজ সেইরকম এক লড়াই দেখছি আমরা। নির্বাচন হচ্ছে, ৯৯% প্রচার মাধ্যম বিক্রি হয়ে গেছে, তাদের সন্ধ্যে আলোচনা হল মোদিজী বলেছেন ৩৭০ পাবেন, আচ্ছে ৩৭০ পাবেন? না ৩৩৫? নাকি ৩৯০? অবকি বার চারশো পার, সন্ধ্যে আলোচনার শীর্ষক।

একজনও বলছেন না, বা আলোচনা টা এই বলে শুরুও করছে না যে ১০ বছরের অ্যান্টি ইনকমব্যান্সি বিজেপিকে হারিয়ে দেবে না তো? সার্ভে বলছে এবারের নির্বাচনে ইস্যু বেকারত্ব, সার্ভে বলছে গত দশ বছরে মানুষের রোজগার বাড়েনি, অনেকের কমেছে, সার্ভে বলছে যে ১০ বছরে ওষুধের দাম বেড়েছে ৮৭%, বলছে মূল্যবৃদ্ধির ফলে ধুঁকছে গরীব, মধ্যবিত্ত। আবার মজার কথা হল সেই সার্ভেই নাকি বলছে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা ৬০% পয়েন্ট। সেই মানুষই নাকি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিজীকে দেখতে চায় যাঁর মাইনে বাড়েনি বা কমেছে। যে মানুষটা ১৬০ টাকায় হাওড়া থেকে বোলপুর যেত সে ৫৫০ টাকা দামের বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পেয়ে মোদিজীকেই ভোট দেবে। এটা মিডিয়া বলছে। কেবল মিডিয়া নয় প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে এক প্রবল শক্তিশালী আর এস এস বিজেপি বিরোধীদের হাত পা বেঁধে নির্বাচনে নেমেছে। তারই এক অঙ্গ হল রাজ্যের অন্যতম বিরোধী নেতার হেলিকপ্টার সার্চ করার নামে তাকে দেরি করানো, হ্যারাস করা। আজ সেটাই বিষয়, অভিষেকের হেলিকপ্টারে কী পাওয়া গ্যালো?

আরও পড়ুন: Aajke | বরাহনগরে ভোটের আসরে কমরেড তন্ময় ভট্টাচার্য

আপনি বলতেই পারেন যে হেলিকপ্টারে করে টাকা যাচ্ছিল, সেই খবর পেয়ে ইনকাম ট্যাক্স ছুটে গেছে। তো কী পেয়েছে? হাতে পেনশিল। হতেই পারে যে ভুল খবর পেয়েছিল। আচ্ছা এরকম একটাও ভুল খবরের ভিত্তিতে একবারের জন্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতার হেলিকপ্টার তো বাদ দিন তাঁর পি এ র গাড়ি সার্চ করার ক্ষমতা দেখাতে পারবে ইডি বা ইনকাম ট্যাক্স? হেমন্ত বিশ্বশর্মার বাড়িতে সারদা মামলার ফাইল নিয়ে হাজির হতে পারবে ইডি? পারবে না, কিন্তু কদিন পরেই প্রথম দফার নির্বাচন তার আগে রাজ্যের অন্যতম বিরোধী দলের নেতার হেলিকপ্টার সার্চ করা হচ্ছে, সুটকেশ খুলে, নিরাপত্তা কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে, কেন? কোন খবরের ভিত্তিতে? আজ একই ঘটনা ঘটলো রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। তাঁর হেলিকপ্টারেও তল্লাশী চললো। এগুলো আসলে ঐ একই ধারণা তৈরি করার জন্যেই হচ্ছে, জানানো হচ্ছে বিরোধীরা প্রত্যেকে চোর। চোর আজ বড় গলায় বাকি প্রত্যেক কে চোর বলছে। নির্বাচনের আগে নির্বাচিত মূখ্যমন্ত্রীদের জেলে পোরা হচ্ছে, আর তা নিয়ে এক ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে যে প্রত্যেক বিরোধী নেতা চোর।

নির্বাচন হচ্ছে প্রচারমাধ্যম বিজেপির হাতে। নির্বাচনী বন্ডের কথা তো এতদিনে সব্বাই জেনে গেছে, পাড়ার ছেনো মাস্তানের মত তোলাবাজি করে টাকা তুলেছে বিজেপি। তা নিয়ে একটা মামলা? একটা ইডি অপারেশন? একটা সি বি আই অভিযান। প্রচার বল তাদের, অর্থবল তাদের, নির্বাচন কমিশন তো ঠুঁটো জগন্নাথ সেই কবে থেকেই। প্রশাসন খুল্লম খুল্লা কাজ করছে তাদের পক্ষে, তারই নির্লজ্জ প্রদর্শন এই হানাদারি। কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, প্রতিটা কথায় আজ এই রাজ্যে তো কাল অন্য আরেক রাজ্যে নতুন নতুন মামলা ঠুকে দেওয়া হচ্ছে, সেব মিলিয়ে এক চরম অসমান মাঠে খেলতে নেমেছেন বিরোধী মানুষজন। হাত পা বেঁধে মত্ত হাতির সামনে ফেলে দেওয়ার মত এক অবস্থা দেশের বিরোধী দলের এবং তারপরে দেশের প্রধানমন্ত্রী এটাকেই গণতন্ত্র বলে প্রচার করছেন। প্রকাশ্যেই বলছেন বিরোধী নেতারা দূর্নীতিগ্রস্ত, বলছেন বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ হল চোরেদের অ্যাসোশিয়েসন। আমরা আমাদের দর্শকদের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক নেতার হেলিকপ্টারে তল্লাশির নামে যে হয়রানি তা কি দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী কাঠামোর আসল ছবি তুলে ধরছে না? বিরোধীদের কাছে না আছে অর্থবল, না আছে মিডিয়া না তাদের প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে, এইরকম এক অবস্থায় এই নির্বাচন কি কেবল এক লোকদেখানো ব্যাপার হয়েই থাকবে না? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

আসলে এক চুড়ান্ত স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠেছে সারাদেশ জুড়ে, যে কাঠামোতে একটা দল একটা নেতা, একটা ভাষা, এক খাদ্যাভ্যাস, এক ধর্মের জায়গা আছে। বহুযুগ ধরে যে বৈচিত্রকে ঘিরেই আমাদের দেশের বিকাশ, যে বিশাল বৈচিত্রের ঐতিহ্যকে নিয়েই আমাদের পথচলা, সেই বৈচিত্রের ওপর কুঠারাঘাত করতে চায় বিজেপি। এক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ পারকালা প্রভাকর বা প্রাক্তন জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল সৎপাল মালিক সেইজন্যই সম্ভবত বলেছেন বিজেপি, মোদিজী যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে নির্বাচন বা গণতন্ত্র বলে এদেশে আর কিছুই থাকবে না।  আমরা খুব সন্তর্পণে এই স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে চলেছি।

RELATED ARTICLES

Most Popular