Placeholder canvas

Placeholder canvas
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | আদানি আম্বানি মোদিজি এবং গরু হারানোর গপ্পো
Fourth Pillar

Fourth Pillar | আদানি আম্বানি মোদিজি এবং গরু হারানোর গপ্পো

সেই গরু হারানোর গল্পটা আবার একবার বলি

Follow Us :

তেলঙ্গানার জনসভাতে মোদিজি বলেছেন, রাহুল গান্ধীকে আদানি আম্বানিরা টেম্পোতে ভরে কালো টাকা পাঠিয়েছেন, সেই জন্যই নাকি রাহুল গান্ধী আদানি আম্বানিদের বিরোধিতা বন্ধ করেছেন। সেই গরু হারানোর গল্পটা আবার একবার বলি। সারাদিন গরু খুঁজে হদ্দ ঘেমে নেয়ে গরু না নিয়েই ঘরে ফিরে লোকটা বলেছিল, হ্যাঁগো একটু খাবার জল দেবে? খেয়ালই করেনি যাকে বলছে সে তার কন্যা। তো বউ শুনতে পেয়ে গা ঝামটা দিয়ে বলেছিল মিনসের চোখ কি গেছে, কাকে কী বলছ? সে লোকটা বলেছিল গরু হারালে এরকমই হয় মা। নার্ভাস ব্রেকডাউন হলে এমনটা হয়, ভয় পেলে এমনটা হয়, মানুষ কী বলতে কী বলে ফেলে। ক্ষমতায় আসা ইস্তক মোদিজির সরকার দেশের জল জঙ্গল জমিন আসমান বেচে দিয়েছেন এই আম্বানি আদানিদের হাতে। আজ তিনি সরকারে বসেই, সেই আদানি আম্বানিদের কাছে কালো টাকা আছে, তারা টেম্পোতে করে রাজনৈতিক নেতাদেরকে টাকা পাঠায়, এসব প্রলাপ বকছেন। অন্য অনেক কিছু বাদই দিলাম, আমাদের দেশের এয়ারপোর্ট, সি পোর্ট কীভাবে বেচে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে দুটো কথা বলি। যে কথাগুলো বলার জন্য মহুয়া মিত্রকে সংসদ থেকেই বের করে দেওয়া হয়েছিল। আজ পর্যন্ত ভারতবর্ষে বড় বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা ২০টা, ছোট অসংখ্য, যেখানে যাত্রী কর্মচারী আহত হয়েছেন বা মারা গেছেন এয়ারপোর্টের মধ্যে। আর দুর্ঘটনা হতে হতে বেঁচে গেছে এমন সংখ্যাও খুব একটা কম নয়। ৭৮ বা ৮৮তেও অনেক কম মানুষ এরোপ্লেনে যাতায়াত করতেন। এখন প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন, তার একটা বিরাট অংশ চাকরির সূত্রে। সস্তায় কর্পোরেট টিকিট কেটে কর্মচারীদের হোটেল ভাড়া বা খাওয়াদাওয়ার খরচ কমিয়ে প্লেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে, এমনি এমনি নয়। অতএব এয়ারপোর্ট যা তৈরি হয়েছিল ১০০ জনের জন্য, এখন তা ব্যবহার করছে ৩৫০ জন। যা হওয়ার তাই হচ্ছে, টয়লেট থেকে বসার জায়গা সবেতেই করুণ অবস্থা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া খাবার, নাকি সিকিউরিটির সমস্যা, এতকিছু চেক করা যায় আর একটা টিফিন কৌটো চেক করা যায় না? আসলে এয়ারপোর্টে ২০০ টাকার কেকের টুকরো, ১৫০ টাকার কফি, ১৪০ টাকার দোসা বা ২৩০ টাকার স্যান্ডুইচ গেলানোর পরিকল্পনায় অসুবিধে হবে, তাই এই ব্যবস্থা। এমনও নয় যে যাঁরা দোকান দিয়েছেন, তাঁরা টাকাটা পাচ্ছেন, টাকাটা পাচ্ছেন যাঁরা এই এয়ারপোর্টের দেখরেখের দায়িত্ব পেয়েছেন। কাদের দেওয়া হয় এর চেয়ে কীভাবে দেওয়া হয়, সেটা জেনে নেওয়া যাক। এয়ারপোর্টের দেখরেখের জন্য যে কোম্পানি ইচ্ছুক, তাদেরকে প্যাসেঞ্জার পিছু একটা টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, ধরুন এ কোম্পানি বলল আমি যাত্রী পিছু সরকার বাহাদুরকে ৫০ টাকা দেব, বি বলল ৪০ টাকা আর সি বলল ৮০ টাকা তাহলে সি কোম্পানি দেখরেখের কন্ট্রাক্টটা পাবে।

এতদিন এই দেখরেখের দায়িত্বে ছিল ২টো কোম্পানি। জিএমআর আর জিভিকে। জিএমআর কোম্পানি ২০০০-এর শুরুর দিকে এই ব্যবসায় নামে, তারা আমাদের দেশে এই মুহূর্তে দিল্লি ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্ট, হায়দরাবাদ এয়ারপোর্ট আর ফিলিপাইন্স ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্ট চালাচ্ছে। গোয়া, বিশাখাপত্তনম আর গ্রিসের ক্রিট এয়ারপোর্ট তৈরির কাজ চলছে তাদের দেখরেখে। জিভিকে গ্রুপ মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালাচ্ছিল, নভি মুম্বই ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্ট প্রোজেক্টের ৭৪ শতাংশের অংশীদার, যা ২০২১-এ চালু হয়েছে। বালি যোগাকার্তা ইন্টারন্যাশান্যাল এয়ারপোর্টও এরাই দেখরেখ করছে। মানে হল মাত্র দুটো কোম্পানিকে দেশের এয়ারপোর্টের ম্যানেজমেন্টের জন্য দেওয়া হচ্ছিল, যা আগে কেবলমাত্র এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়াই করত। গ্লোবালাইজেশন, লিবারালাইজেশন-এর কাজকর্ম আর কী। তো দুটো কোম্পানি কেন থাকবে? আরও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোম্পানিও আসুক, ডুয়োপলি তো কাজের কথা নয়। অতএব মোদি সরকার আসার পরে অন্য কোম্পানিদের কাছ থেকেও বিনিয়োগ চাওয়া হল। আটটা এয়ারপোর্ট নিয়ে কথা শুরু হল। তারমধ্যে ৬টা চলে গেল আদানি গ্রুপের কাছে, লখনউ, জয়পুর, আমেদাবাদ, গুয়াহাটি, ম্যাঙ্গালুরু, তিরুবনন্তপুরম। গুজরাতে রাজকোট গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট গেল রিলায়েন্সের কাছে, নভি মুম্বই তো ছিলই জিভিকে-এর কাছে। মানে এবার ব্যবসাতে ঢুকলেন আদানি আর আম্বানি। মানে আপাতত এদেশে মুক্ত বাণিজ্য মানে আদানি আর আম্বানির এন্ট্রি। ছ’খানা এয়ারপোর্টের দেখরেখের যে টেন্ডার বের হল সেখানে আদানি সবচেয়ে বড় বিডার, মানে সব থেকে বেশি পয়সা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অতএব তারাই দেখরেখের ভার পেয়েছে। এখন এ ধরনের টেন্ডারে কি কেবলমাত্র যাত্রী পিছু বেশি টাকা দেওয়াটাই বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করাটাই একমাত্র শর্ত? একটাই ক্রাইটেরিয়া? যাত্রী পিছু জিভিকে ৬৫ দেবে বলেছে, আদানি ১০০ দেবে বলেছে, অতএব এয়ারপোর্ট তার। এরকম তো হতে পারে না। তাদের এরকম কাজ করার সামর্থ্য আছে কি না, তাদের এরকম কাজের অভিজ্ঞতা আছে কি না, এসবও তো দেখা হয়।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ২৫শে বৈশাখ, হে নূতন

প্রথম ঝামেলা শুরু হল ৬টা এয়ারপোর্টের কন্ট্রাক্ট পাওয়ার পরেই, প্যান্ডেমিককে ঢাল করে আদানি জানিয়ে দিল, তারা এই মুহূর্তে ৬টাতে কাজ শুরু করার মতো অবস্থায় নেই, তাদের কাছে সে পরিমাণ টাকা নেই। তারা তিনটের কাজ এখন শুরু করছে তিনটের কাজ পরে শুরু করবে। এদিকে তিরুবনন্তপুরম নিয়ে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী আপত্তি জানালেন, কারণ ওই এয়ারপোর্ট নিয়ে আগ্রহী ছিল তিনজন, এক হল রাজ্য সরকার, মানে কেরালা রাজ্য সরকার এক সংস্থা বানিয়ে তাদের রাজ্য রাজধানীর বিমানবন্দরের দায় নিতে চাইছিল। তারা এর জন্য অভিজ্ঞ মানুষজনদের আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকারি সংস্থা হিসেবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। মানে তারা পারবে কি পারবে না, এ নিয়ে নয়, তারা যে মাঝপথে এক সকালে স্যুটকেস নিয়ে বিজয় মালিয়ার মতো উধাও হয়ে যাবে না, এটা তো বলাই যায়। দ্বিতীয় ছিল জিভিকে যাদের কাছে মুম্বই ছত্রপতি শিবাজি বিমানবন্দর আর বালিতে যোগাকার্তা এয়ারপোর্ট, দুই চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। তিন নম্বর খিলাড়ি হল আদানি, Adani Airport Holdings Limited is a Public incorporated on 02 August 2019. It is classified as Non-govt company and is registered at Registrar of Companies, Ahmedabad. Its authorized share capital is Rs. 100,000,000 and its paid up capital is Rs. 100,000. রেজিস্টারার অফ কোম্পানিস থেকে এই তথ্য পাওয়া গেল। গত বছর অগাস্ট মাসে এই কোম্পানি তৈরি হয়েছে, আহমেদাবাদে নথিভুক্ত হয়েছে। ডিরেক্টররা হলেন Jugeshinder Singh, Karan Gautam Adani, Malay Ramesh Mahadevia, এর মধ্যে করণ আদানি হলেন chief executive officer of Adani Ports & SEZ Limited, এদিকে আদানি পোর্টস থিরুবনন্তপুরমের পোর্টের মালিক। মানে জাহাজ বন্দর ছিলই, এবার বিমানবন্দরও চাই, পেলেনও। সেই কবে ছোট্টবেলায় বিজনেস বলে একটা খেলা ছিল, নকল নোট দিয়ে আমরা এয়ারপোর্ট, সি পোর্ট, রেল স্টেশন কিনতাম, এখন দেখছি সেটা আর খেলা নয়, সত্যি সত্যি চলছে। আদানি তিরুবনন্তপুরম সি পোর্টের মালিক, তারা তিরুবনন্তপুরম এয়ারপোর্টের মালিক। জিডিপি নামছে, ২০২০-র প্রথম কোয়ার্টারে আমাদের জিডিপি মাইনাস ২৩.৯ শতাংশ আর মুকেশ আম্বানির গ্রোথ? The company in a statement said the net profit attributable to owners for June quarter 2019-20 increased to Rs 601 crore as against Rs 169 crore in the same period of 2018-19.

মানে জুন কোয়ার্টারে মোট লাভ আগের বছরের ১৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬০১ কোটি টাকা হয়েছে। মানে ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি, দেশ মাইনাস ২৩.৯ শতাংশ। আসুন মুকেশ আম্বানির দিকে তাকানো যাক, ২০১৯-২০২০তে রিলায়েন্স গ্রুপের মোট আমদানি একশো হাজার কোটি টাকা পার করেছে, ডিজিটাল সার্ভিসে ৪০.৭ শতাংশ আর রিটেল ব্যবসায় ২৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে, দেশের বৃদ্ধি মাইনাস ২৩.৯ শতাংশ। দেশটা যে কার হাতে পড়েছে, এই হিসেব থেকে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা। আবার পুরোন কথায় ফিরি, তিরুবনন্তপুরম এয়ারপোর্টের টেন্ডারে তিনজন তাদের দর দিলেন, আদানি বললেন আমি মাথাপিছু ১৬৮ টাকা দেব, কেরালা রাজ্য সরকার জানাল তারা ১৩৫ টাকা দেবে আর জিভিকে দেবে ৬৩ টাকা। ব্যস, খেল খতম পয়সা হজম। তিরুবনন্তপুরম এয়ারপোর্ট চলে গেল আদানিদের হাতে। টাকা নেই বলে আদানি গ্রুপ আপাতত তিনটে এয়ারপোর্টের কাজ স্থগিত রাখলেও নতুন টেন্ডারে অংশ নিল। মুম্বই ছত্রপতি শিবাজি ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্টের দেখরেখের দায় ছিল জিভিকের উপর, তাদের ৫০.৫ শতাংশ শেয়ার নিল আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড, শেয়ার নেওয়ার আগে অবশ্য ইডি গিয়েছিল জিভিকে দফতরে। এয়ারপোর্ট কোম্পানি অফ সাউথ আফ্রিকা আর সাউথ আফ্রিকারই বিডভেস্ট গ্রুপের হাতে থাকা ১০ আর ১৩.৫ শতাংশ শেয়ারও আদানিদের হাতে, মানে মোট ৭৪% শেয়ার হাতে নিয়ে তারাই এখন দখলদার ছত্রপতি শিবাজি এয়ারপোর্টের। যদিও এই শেয়ার হস্তান্তর নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা রয়েছে, ভাববেন না, ওসব আদানি সামলে নেবে, মাথার উপর কার হাত রয়েছে সেটা একবার ভাবুন।

২০১৯-এ কোম্পানি তৈরি হল, এক বছর যেতে না যেতেই তারা দেশের মুম্বই সমেত সাতটা এয়ারপোর্টের দখলদার, তারাই দেখরেখ করবে।

আচ্ছা সমস্যাটা কোথায়? আছে, বহু সমস্যা আছে। একবার ভাবুন সরকারের সঙ্গে কতটা গভীর যোগাযোগ থাকলে এটা জানা যায় যে বিমানবন্দর নিলামে তোলা হবে, খবর পেয়ে, তবেই তো আদানি নতুন কোম্পানি করলো? তাই না? ওদিকে মোদিজি চিল চিৎকার করছিলেন, না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। তাই নাকি? তাহলে এটা কী? ২০১৯-এ তৈরি হল কোম্পানি আর ২০২০তে তাদের হাতে মুম্বই সমেত সাত সাতটা এয়ারপোর্ট? কে খাচ্ছে মোদিজি? জবাব তো চাইবই।

এবং মজার কথা দেখুন, ৮টা এয়ারপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো, কেন? না এই শিল্পে যাতে আরও অনেক বিজনেস হাউস আসতে পারে, এবং এল কারা? আদানি আর আম্বানি। আদানির কাছে যে এয়ারপোর্ট গেল, যে সময়ে গেল, সেই সময়ে তার প্রত্যেকটাই বিজেপি শাসিত রাজ্যে। জয়পুর, রাজস্থানে তখন বসুন্ধরা রাজের সরকার, আমেদাবাদ, গুয়াহাটি, লখনউ, ম্যাঙ্গালুরু, কেবলমাত্র তিরুবনন্তপুরমে আছে বামপন্থী সরকার, সেখানেই ঝামেলা শুরু হয়েছিল, এখন সব মিটে গেছে। আসলে ঠিক এই মুহূর্তে না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গার এই মোদি সরকারের কাছের শিল্পপতি হলে আইন নিজের মতো তৈরি করে নেওয়া যাবে, পরিবেশ সংক্রান্ত কোনও বাধা আসবে না। তাকিয়ে দেখুন নভি মুম্বই এয়ারপোর্টের প্রজেক্টের দিকে, পরিবেশের গুষ্টির ষষ্ঠীপুজো হয়ে যাচ্ছে, তাতে কার কী? আদানিরা একের পর এক সি-পোর্ট এয়ারপোর্ট নিয়েই চলেছে, আম্বানিদের হাতে দেশের টেলিকমিউনিকেশন, ধীরে ধীরে উঠে যাবে বিএসএনএল।

এ সরকার সব বেচে দেবে। আবার মনে পড়ে যাচ্ছে, ছোটবেলার খেলা। কী উত্তেজনা। দুটো ঘুঁটি পড়লে ১০৫০০ টাকায় এয়ারপোর্ট কিনে নাও, এয়ারপোর্ট আর সি-পোর্ট থাকলে ভাড়া বেশি পাবে, গোডাউন কেনো, হায়দরাবাদ কেনো ৩৫০০তে, রেলওয়েজ ৯৫০০তে, ছক্কা ফেলো দার্জিলিং, শৈলশহর, দাম মাত্র আড়াই হাজার টাকা। যাদের হাতে চলে গেল দেশের সম্পদ, সেই আদানির কালো টাকা আছে, সেই আদানি টেম্পো করে কালো টাকা পাঠাচ্ছেন রাহুল গান্ধীকে, মোদিজি বুড়ো আঙুল চুষতে চুষতে সে কথা জানাচ্ছেন দেশের মানুষকে।

RELATED ARTICLES

Most Popular